লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের যে ১১ আলামত পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে দেয়া হয়েছিল, সেখানে কিছু ডিএনএ নমুনা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিজিৎ হত্যায় এ পর্যন্ত যে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে ওই ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে।
হত্যায় ‘সরাসরি যুক্ত দুইজন’সহ তাদের সহযোগিতায় থাকা আরও পাঁচজনের কথা পুলিশ জানতে পারলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি বলে জানান তিনি।
সোমবার মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল বলেন, এফবিআই স্বঃপ্রণোদিত হয়ে স্বেচ্ছায় আমাদের সহযোগিতা করছে। ডিএনএ নমুনার বিষয়ে যে প্রতিবেদন তারা তৈরি করেছে, তার কপি শিগগিরই আমরা পাব।
পুলিশ এ পর্যন্ত যে আটজনকে গ্রেফতার করেছে, তাদের মধ্যে কেউ হত্যায় সরাসরি অংশ নিয়েছিল কি না- তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
গতবছর ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে সঙ্গে নিয়ে একুশে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড়ের কাছে জঙ্গি কায়দায় হামলায় নিহত হন অভিজিৎ। বন্যার একটি আঙুল চাপাতির আঘাতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ওই হামলার পর টিএসসির ৫০ গজ উত্তরে ঘটনাস্থল থেকে দুটি চাপাতি ও একটি ব্যাগ আলামত হিসাবে সংগ্রহ করে পুলিশ। ল্যাপটপের ওই ব্যাগে কয়েকটি পত্রিকা ভাঁজ করা ছিল, যা চাপাতিগুলো মোড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে পুলিশের ধারণা। এছাড়া একটি জিন্স প্যান্ট ও কয়েকটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেটও পাওয়া যায় ব্যাগের ভেতরে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অভিজিৎ প্রকৌশলী হিসেবে সেখানে কর্মরত ছিলেন। বইমেলার মাঝামাঝি স্ত্রীকে নিয়ে দেশে হামলায় নিহত হন তিনি। খবর বিডিনিউজের।
