বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ‘স্কিমিং ডিভাইসের সাহায্যে টাকা চুরির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার বনানী থানা পুলিশের কাছ থেকে ডিবির একজন পরিদর্শক মামলার নথিপত্র বুঝে নিয়েছেন। ঘটনায় জড়িতরা যেন দেশ ছাড়তে না পারে সে কারণে তাদের ছবি বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশনে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত সূত্র জানায়, এটিএম বুথ থেকে স্কিমিং ডিভাইসের মাধ্যমে গ্রাহকের এটিএম কার্ডের তথ্য ও পাসওয়ার্ড চুরি করে ক্লোন কার্ড তৈরি করে টাকা তুলে নিয়েছে একটি চক্র। এই চক্রের সঙ্গে একাধিক বিদেশি নাগরিক জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে জড়িত বিদেশি নাগরিকরা যেন দেশ ছেড়ে যেতে না পারে সেজন্য তাদের ছবি স্থল ও বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাহফুজুর রহমান বলেন, মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। বুথ থেকে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য বিষয়গুলোর বিশ্লেষণ চলছে। একই সঙ্গে এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত চক্রকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
গত শুক্রবার রাজধানীর বনানী ও মিরপুর এলাকার বিভিন্ন বুথ থেকে তিনটি বেসরকারি ব্যাংকের গ্রাহকদের এটিএম কার্ড ক্লোন করে টাকা তুলে নেয় একটি জালিয়াতি চক্র। বিভিন্ন গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিজেরা প্রাথমিক তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পায়। এর প্রেক্ষিতে গত শুক্রবার ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল)-এর পক্ষ থেকে বনানী থানায় তথ্য-প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার সূত্র ধরেই তদন্তে মাঠে নামে পুলিশ।
তদন্ত সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে তারা বিভিন্ন এটিএম বুথের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। এসব ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে আফ্রিকান কোনও একটি দেশের নাগরিক ক্লোন কার্ড দিয়ে টাকা তুলছে। তার সঙ্গে দেশীয় নাগরিকও রয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, দেশি এজেন্টদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক কোনও ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি চক্র স্কিমিং ডিভাইসের মাধ্যমে বুথ থেকে টাকা চুরি করছে। এই চক্রটিকে সনাক্তের জন্য জোর প্রচেষ্টা চলছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বিদেশি নাগরিককে সনাক্ত করার জন্য সম্ভাব্য দেশের নাগরিক হিসেবে ছবির সঙ্গে তার নথিপত্র মিলিয়ে দেখার চেষ্টা চলছে। এক্ষেত্রে পুলিশের বিশেষ শাখা এসবি’র ইমিগ্রেশন শাখার সহায়তা নিয়ে কাজ করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে সোমবার পর্যন্ত জড়িত বিদেশি নাগরিকদের নাম-ঠিকানা সনাক্ত করা যায়নি।
