পর্যটন নগরী ও যাদুঘর স্থাপনের দাবি

জলঢাকায় ৮০০ বছরের বৌদ্ধ মন্দিরের সন্ধান

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১৪:২১
নীলফামারীর জলঢাকায় ৮০০ বছরের পুরনো পাল আমলের বৌদ্ধ মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পেয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের গড় ধর্মপাল গ্রামে দেড় মাস খননকাজ চালিয়ে মাটির নিচ থেকে ওই নিদর্শন উদ্ধার করা হয়। ওই এলাকায় আরো নিদর্শন উদ্ধারে অনুসন্ধান চালাচ্ছে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞদল। এরমধ্যে এলাকাটিকে পর্যটন নগরী ঘোষণা ও যাদুঘর স্থাপনের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
 
এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গড় ধর্মপাল গ্রামে উদ্ধার হওয়া বৌদ্ধ মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ খননকাজ শেষে বিশেষজ্ঞদল সংরক্ষণ করে রেখেছে এলাকাটি। 
 
পাহারারত দয়াল ও দ্বিজেন জানান, দলটি সেখান থেকে একই ইউনিয়নের পাইটাকাপাড়া গ্রামে অনুসন্ধান কাজ চালাছে। প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, শাহ গোরক কামাল (রা.) পীরের মাজারে প্রত্নতত্ত্ব উদ্ধারে অনুসন্ধানের কাজ চালাছে বিশেষজ্ঞ দলটি।
 
সেখানে দীর্ঘদিন থেকে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ দলের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বগুড়া মহাস্থানগড় জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়ান এ এস এম হাসানাত বিন ইসলাম বলেন, ‘কামরুপের রাজা হর্ষপাল দেবের ছেলে ধর্মপাল এ এলাকা শাসন করেছিলেন। জরিপের মাধ্যমে সে সময়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করার পর খননকাজ পরিচালনা করে ওই সময়ের বৌদ্ধ মন্দিরের মূল অবকাঠামো (৩৩ সারি ইটের গাঁথুনি) উন্মোচন হয়েছে। ওপরের অংশটি হয়তো কোনোভাবে ধ্বংস হয়েছে। 
 
হাসানাত বলেন, পাঁচ ধাপে বিভক্ত করে খননকাজটি শুরু হয় গত ১ জানুয়ারি। চার ধাপের অনুসন্ধান ও খননকাজ শেষে পঞ্চম ধাপে ওই বৌদ্ধ মন্দিরের সন্ধান মেলে। 
 
তিনি জানান, সেটি উদ্ধারের পর গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আমরা সেখান থেকে এই মাজার এলাকায় এসে আরো অনুসন্ধান শুরু করেছি। এরপর হাজীপাড়া জামে মসজিদ, সতীশের ডাঙ্গাসহ আরো কয়েকটি স্থানে খননকাজ পরিচালনা করবে বলে তিনি জানান। উদ্ধার হওয়া বৌদ্ধ মন্দিরটির আয়তন ছিল ১২ দশমিক ২৫ মিটার। এর চারদিকে সীমানা প্রাচীরের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। 
 
জলঢাকা  কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রধান সাবেক সহকারী অধ্যাপক এজিএম নোমান জানান, পাল বংশের শেষদিকে সম্ভাব্য ১১০০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কামরুপের রাজা হর্ষপাল দেবের ছেলে ওই এলাকা শাসন করেছিলেন। সে সময়ে জলঢাকার বর্তমান ধর্মপাল ইউনিয়ন ও ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের কিছু অংশে তার রাজধানী স্থাপন করেন। বহিঃশত্রুর হাত থেকে রক্ষার জন্য তার প্রাসাদের বাইরে মাটির উঁচু প্রাচীর দ্বারা তিনি তার রাজধানীকে বেষ্টিত করেন। সেই থেকে ওই এলাকাটির নাম হয় গড় ধর্মপাল বা ধর্মপালের গড়। জলঢাকা ও ডোমারের কিছু অংশ ছাড়া অন্য কোথাও এর চিহ্ন নেই। 
 
স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘প্রয়াত সাংবাদিক সামসুল হুদা জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘ধর্মপাল বাঁচাও’ আন্দোলন গড়ে তোলেন। তার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮৭ সালে ধর্মপালকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এর রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় মূল্যবান অনেক কীর্তি হারিয়ে গেছে। আমাদের এলাকাবাসীর দাবি সেখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করে একটি জাদুঘর স্থাপন এবং পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা করার। 
 
গোলাম মোস্তফা আরো বলেন, আমি এ বিষয়ে দুই দিন জাতীয় সংসদে আলোচনা করেছি। সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনিও এ বিষয়ে আন্তরিক। 
 
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানার নেতৃত্বে সাত সদস্যের বিশেষজ্ঞদলের সদস্যরা হলেন- মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান, দলনেতা মো. মুজিবুর রহমান, রংপুর জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান আবু সাইদ ইনাম তানভিরুল, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রাজশাহীর জ্যেষ্ঠ ড্রাফসম্যান মো. আফজাল হোসেন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রাজশাহীর আলোকচিত্রী মো. আবুল কালাম আজাদ ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রাজশাহীর সার্ভেয়ার মো. লোকমান হোসেন।