বংশালে স্বর্ণ ছিনতাই: এসআই আশরাফুলসহ তিনজন রিমান্ডে

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২০:২৬
 
বংশালে স্বর্ণবার ছিনতাইয়ের ঘটনায় এসআই আশরাফুল ও বিমান বাহিনীর চাকরিচ্যুত কর্পোরাল রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ছিনতাই চেষ্টা মামলা হয়েছে। ওই মামলায় মঙ্গলবারই দুজনকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। অপরদিকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পরিচয় দেয়া চোরাচালান চক্রের সদস্য রেজাউল কবিরের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তার কাছ থেকে ৯০৩ গ্রাম ওজনের স্ব্বর্ণবার জব্দ করা হয়েছে।
 
ডিএমপি সূত্র জানায়, এসআই আশরাফুল বনানী থানায় কর্মরত থাকলেও তিনি গতমাসে খিলক্ষেত থানায় সংযুক্ত হয়ে লা-ম্যারিডিয়ানে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করছিলেন। মামলার পাশাপাশি এসআই আশরাফুলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এছাড়া মামলা তদন্তের পাশাপাশি এ ঘটনা তদন্তে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
 
বিকালে তিন সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার।  তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (লিজিস্টিক) ওয়াই এম বেলালুর রহমানকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাশরুকুর রহমান খালেদ ও লালবাগ বিভাগের ডিসি মফিজউদ্দিন আহমেদ।
 

পুলিশ সূত্র জানায়, এসআই আশরাফুল ও রাজ্জাকের সখ্যতা দীর্ঘদিনের। তারা ছিনতাইয়ে তাতীবাজার ও গাবতলীতে সিন্ডিকেল গড়ে তোলেন। রাজ্জাক টার্গেট ঠিক করে আশরাফকে খবর দেন। পরে তারা পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই করে। গত সোমবার রাতে রেজাউল তাঁতীবাজার থেকে স্বর্ণ নিয়ে বের হতেই তাকে নজরদারী শুরু করে ওই দুজন। ব্যাগে ভরা স্বর্ণ নিয়ে রেজাউল বিহঙ্গ পরিবহনের বাসে উঠলে বসলেই আশরাফুল ও রাজ্জাক পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে নামিয়ে রাস্তায় স্বর্ণ ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন। এসময় রেজাউল চিত্কার দিলে চিত্কার শুনে স্থানীয়রা দৌড়ে আসেন এবং দু’জনকে ধাওয়া করেন। একপর্যায় জনতা দু’জনকে ধরে ফেলেন এবং কিলঘুসি মারতে থাকেন। এ সময় ওই এলাকায় টহলরত পুলিশ সদস্যরা ছুটে আসেন এবং দু’জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।