জলঢাকায় ৮শ’ বছর পুরনো বৌদ্ধ মন্দিরের সন্ধান

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ০৭:৪৫

নীলফামারীর জলঢাকায় ৮শ বছরের পুরনো পাল আমলের বৌদ্ধ মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পেয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের গড় ধর্মপাল গ্রামে দেড় মাস খননকাজ চালিয়ে ঐ মন্দিরের সন্ধান পাওয়া যায়। ওই এলাকায় আরো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুঁজে পেতে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিশেষজ্ঞদল। এদিকে এলাকাটিতে পর্যটন নগরী গড়ে তোলা ও জাদুঘর স্থাপনের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

 
এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সন্ধান পাওয়া বৌদ্ধ মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ ঘিরে পাহারা বসানো হয়েছে। সেখানে পাহারারত দয়াল ও দ্বিজেন জানান, বিশেষজ্ঞ দল একই ইউনিয়নের পাইটাকাপাড়া গ্রামেও খনন কাজ চালাচ্ছে। প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, শাহ গোরক কামাল (রা.) পীরের মাজারে খনন কাজ চালানো হচ্ছে।
 
সেখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বগুড়া মহাস্থানগড় জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়ান এ এস এম হাসানাত বিন ইসলাম বলেন, ‘কামরূপের রাজা হর্ষপাল দেবের ছেলে ধর্মপাল এ এলাকা শাসন করেছিলেন। জরিপের মাধ্যমে সে সময়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করার পর খননকাজ পরিচালনা করে বৌদ্ধ মন্দিরের মূল অবকাঠামো (৩৩ সারি ইটের গাঁথুনি) উন্মোচন হয়েছে। ওপরের অংশটি হয়তো কোনভাবে ধ্বংস হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘পাঁচ ধাপের খনন কাজটি শুরু হয় গত ১ জানুয়ারি। পঞ্চম ধাপেই ওই বৌদ্ধ মন্দিরের সন্ধান মেলে। তিনি জানান, সেটি আবিষ্কারের গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আমরা সেখান থেকে এই মাজার এলাকায় এসে অনুসন্ধান শুরু করেছি। এরপর হাজীপাড়া জামে মসজিদ, সতীশের ডাঙ্গাসহ আরো কয়েকটি স্থানে খননকাজ পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান। বৌদ্ধ মন্দিরটির আয়তন ১২ দশমিক ২৫ মিটার। এর চারদিকে সীমানা প্রাচীরের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।
 
জলঢাকা কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রধান এজিএম নোমান জানান, ‘পাল বংশের শেষদিকে সম্ভাব্য ১১০০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কামরুপের রাজা হর্ষপাল দেবের ছেলে ওই এলাকা শাসন করেছিলেন। সে সময়ে জলঢাকার বর্তমান ধর্মপাল ইউনিয়ন ও ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের কিছু অংশে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন। বহিঃশত্রুর হাত থেকে রক্ষার জন্য তাঁর প্রাসাদের বাইরে মাটির উঁচু প্রাচীর দ্বারা তিনি তার রাজধানীকে বেষ্টিত করেন। সেই থেকে ওই এলাকাটির নাম হয় গড় ধর্মপাল বা ধর্মপালের গড়। জলঢাকা ও ডোমারের কিছু অংশ ছাড়া অন্য কোথাও এর চিহ্ন নেই।
 
স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘প্রয়াত সাংবাদিক সামসুল হুদা জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘ধর্মপাল বাঁচাও’ আন্দোলন গড়ে তোলেন। তার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮৭ সালে ধর্মপালকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এর রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় মূল্যবান অনেক কীর্তি হারিয়ে গেছে। আমাদের দাবি সেখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করে একটি জাদুঘর স্থাপন এবং পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা করার।