গৌরনদীতে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেলো তিন কিশোরী

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৯, ১৯:৪২

পরিবারের স্বজনরা একপ্রকার জোর করে বাল্যবিয়ের সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছিলো গৌরনদীর তিন কিশোরীর। কিশোরীদের বাড়ির সামনে নির্মান করা হয়েছিলো সু-বিশাল বিয়ের গেট। ভেতরে অতিথি আপ্যায়নের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। বাকি ছিলো কেবল বর যাত্রীর আসা। এ সময় তাদের বাড়িতে বরযাত্রীর পরিবর্তে পুলিশ নিয়ে হাজির হয়েছেন চৌকস উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা নাছরিন। পণ্ড হয়ে যায় বাল্য বিয়ের সব আয়োজন।

ইউএনওর হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেয়েছে তিন কিশোরী। এ ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের জঙ্গলপট্টিতে এবং অপর দুটি ঘটনা ঘটেছে বুধবার দিবাগত রাত নয়টার দিকে শংকরপাশা এবং অপরটি ওইদিন দুপুরে একই উপজেলার বড়দুলালী গ্রামে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাহিলাড়া ইউনিয়নের বাদশা মিয়া জঙ্গলপট্টি দাখিল মাদ্রাসা থেকে সদ্য দাখিল পরীক্ষা দেওয়া ছাত্র। একই গ্রামের শহিদ বেপারীর কন্যা মরিয়ম আক্তারের (১৬) সঙ্গে বৃহস্পতিবার দুপুরে তার বিয়ের দিন ধার্য ছিলো। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু ওই বাড়িতে উপস্থিত হন। তিনি ছাত্রীর মা-বাবাকে বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে সচেতন করেন। পরবর্তীতে ওই ছাত্রীর মা তাদের কন্যা মরিয়মকে ১৮ বছরের পূর্বে বিয়ে দিবে না মর্মে লিখিত মুচলেকা দিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়।

অপরদিকে নলচিড়া ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের মনরঞ্জন ঢালী তার কন্যা প্রতিরানী ঢালী পুজার (১৫) অমতে হিন্দুরীতি অনুযায়ী বুধবার রাতে বিয়ের সকল আয়োজন সম্পন্ন করেন। কনের বাড়ির লোকজনে শুধুমাত্র বরযাত্রীদের আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন। এমন সময় রাত নয়টার দিকে বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে প্রত্যন্ত গ্রামের কনের বাড়িতে থানা পুলিশ নিয়ে হাজির হন উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা নাছরিন। তিনি বাল্যবিয়ের সকল আয়োজন পণ্ড করে দিয়ে কিশোরীর বাবাকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে নগদ তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন। একইসঙ্গে প্রাপ্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত কনের বাবা ও তার স্বজনদের কাছ থেকে মুচলেকা রাখেন।

আরও পড়ুনঃ বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুন নাহার

একইদিন দুপুরে উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের বড়দুলালী গ্রামের অলিল খন্দকারের বাড়িতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা নাছরিন হাজির হয়ে তার কন্যা সুমি আক্তারের (১৬) বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন।

ইত্তেফাক/নূহু