সারাদিনের ক্লান্তির পর শান্তির স্থানটি হলো নিজের বাসা। আর এই শান্তির জায়গাটা হওয়া চাই সাজানো-গোছানো ও সুন্দর-পরিপাটি। শুধু দামি আসবাবপত্র দিয়ে ঘর সাজালে সুন্দর লাগে না। ঘরের সৌন্দর্যের জন্য দেয়ালের রঙটা মনের মতো হতে হবে। ঘরের দেয়াল কাব্য নিয়ে লিখেছেন নওশীন শর্মিলী।
সময়ের সাথে পাল্টে গেছে এখন ঘরের দেয়ালের রং। গতানুগতিক সাদা রংয়ের দেয়াল থেকে বেরিয়ে সবাই এখন রঙিন দেয়ালটাই পছন্দ করেন। সেইসাথে দেয়ালের রং আর উপাদানে এসেছে নানা বৈচিত্র্য। ফলে অন্দরসজ্জাটা এখন অনেকটাই চার দেয়ালের কাব্য হয়ে উঠেছে। অন্দরের দেয়ালসজ্জা আজকাল শুধু বাহারি রং কিংবা নকশার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ঘরের দেয়ালের রঙের প্রভাব আমাদের মনের ওপর পড়ে সবচাইতে বেশি। নিজের পছন্দের রং যদি দেয়ালে থাকে তবে ঘরে ঢোকার পরপরই মন অনেক ভালো হয়ে যায়। কাজকর্মে স্পৃহা আসে। অনেকেই ভাবেন ঘরের দেয়াল সাদা কিংবা অফ হোয়াইট হলেই ঘর ভালো দেখায়। আসলে ঘরে যেকোনো রঙের খেলাই ভালো লাগবে। নিজের মনের মতো করে দেয়াল রাঙিয়ে নিন। চাইলে কনট্রাস্ট করে ২টি রং ব্যবহার করতে পারেন একটি ঘরের চার দেয়ালে। দেখবেন ঘর যেমন সুন্দর লাগছে, তেমনি আপনার মনও উত্ফুল্ল থাকবে।
দেয়াল সাজনোর আরেকটি সহজ ও সুন্দর উপায় হচ্ছে দেয়ালে ছবি লাগানো। বিভিন্ন আকার-আকৃতির ফ্রেমে নিজের কিংবা নিজের পরিবারের সকল স্মৃতি বন্দি করে ঝুলিয়ে দিন দেয়ালে। মনের মতো করে ছবি বাছাই করুন। চাইলে একটি বড় ছবি বাঁধাই করে ঝুলিয়ে রাখতে পারেন দেয়ালে। দেখবেন দেয়ালটাই মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। একটি সুন্দর পেইন্টিংস ঘরের চেহারা পাল্টে দিতে বাধ্য। পেইন্টিংস যে শুধু দামিই হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। সাধারণ পেইন্টিংস একটু বুদ্ধি করে দেয়ালে ঝুলিয়ে দেখুন ঘরটি কতটা আকর্ষণীয় লাগছে। পেইন্টিংস আপনার সৃজনশীল মনের পরিচয়বাহক হিসেবেও কাজ করবে।
দেয়ালে আঁকাআঁকি করা শুধু বাচ্চাদের কাজ ভেবে হেসে উড়িয়ে দেবেন না। বর্তমানে দেয়াল সাজাতে সবচাইতে সহজ ও সুন্দর পদ্ধতি হচ্ছে দেয়ালে আঁকা চিত্রকর্ম। অনেকেই আছেন যারা নিজের শৈল্পিক মনের চিন্তাভাবনা মনেই দাবিয়ে রেখেছেন, তারা একটুখানি সময় বের করে এনামেল পেইন্ট ও তুলি নিয়ে লেগে যান কাজে। দেখবেন আপনার মনের ভাষা কিভাবে দেয়ালকে সাজিয়ে তুলছে।
