জেলেদের হাতে নির্বিচারে ধরা পড়ছে বঙ্গোপসাগরের হাঙ্গর। ছোট-বড় নির্বিশেষে দুবলার চর, কুয়াকাটা, ফাতরার চরের শুঁটকি পল্লী থেকে পাড়েরহাট, পাথরঘাটা, মহিপুর-আলীপুর ইত্যাদি মত্স্য বন্দরে হাঙ্গর নিধনের অবাধ তত্পরতা লক্ষ্য করা যায় এ মৌসুমে। বন্যপ্রাণী আইনে ছোট হাঙ্গর আহরণ নিষিদ্ধ থাকলেও মানছে না জেলেরা। মাঘ-ফাল্গুন মাসে ছোট-বড় নানা আকারের হাঙ্গর ধরে এনে শুঁটকিকরণ, হিমায়িতকরণ ও ছেঁড়া-কাটা করে কেনা-বেচা চলে এসব জায়গায়। চালান হয় ঢাকা ও চট্টগ্রামে এবং সেখান থেকে হাঙ্গরের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ রপ্তানি করা হয় দেশের বাইরেও। হাঙ্গর শিকার করে বিপণন লাভজনক হওয়ায় এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগও ব্যাপক। সুন্দরবনের দুবলার চরের পাঁচটি জেলে পল্লীতে শীত মৌসুমে বিপুলহারে হাঙ্গর নিধন করা হয়। কুয়াকাটা-ফাতরার চর শুঁটকি পল্লীতেও একই চিত্র।
বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরের ২৭ প্রজাতিরও বেশি হাঙ্গর রয়েছে। যার মধ্যে খুব কম প্রজাতির হাঙ্গর মানুষের জন্য বিপজ্জনক। মানুষের পছন্দের মাছ যেসব রাক্ষুসে মাছ ভক্ষণ করে হাঙ্গর মূলত সেসব রাক্ষুসে মাছগুলোকেই খায়। নির্বিচারে নিধন হয়ে হাঙ্গর বিলুপ্ত হলে রাক্ষুসে মাছের বংশ বিস্তার ঘটতে থাকলে মানুষের প্রিয় মাছও হারিয়ে যাবে।
পাড়েরহাট মত্স্য বন্দরে গিয়ে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগর থেকে হাঙ্গর শিকারের পর জেলেরা এখানে এনে তা প্রক্রিয়াজাত করে। কাঁচা ও শুঁটকি দুই পদ্ধতিতে মাছ প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এখানে ২০ কেজি বা ঊর্ধ্বের হাঙ্গর মণপ্রতি ৮ হাজার টাকার নিচে, ছোট হাঙ্গর পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হয়। শুঁটকির কেজি ৩শ’ টাকা। পাড়েরহাট মত্স্য বন্দরে ৪০/৪২ জন মত্স্য ব্যবসায়ী হাঙ্গর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনজন আছেন বড় পাইকারী ব্যবসায়ী যারা চট্টগ্রামে হাঙ্গর চালান দেন। এছাড়া হাঙ্গরের কান, ডানা, দাঁত ও তেল আলাদাভাবে বিক্রি হয়। হাঙ্গরের কান ও ডানার ব্যাপক চাহিদা পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে রয়েছে।
পাড়েরহাটের জেলে মোসলেম আলী জানান, সাধারণ বসন্তকালে বেশি ধরা পড়ে হাঙ্গর। এ মাছ সংরক্ষণ করতে তেমন বরফ লাগে না, সংরক্ষণসহ নানা খরচ সাশ্রয়ী বলে হাঙ্গরের ব্যবসা অধিক লাভজনক। তাই জেলেরা হাঙ্গর শিকারে আগ্রহী বেশি। সামুদ্রিক মত্স্য দপ্তরের পরিচালক নাসিরউদ্দিন মো. হুমায়ুন বলেন, সামুদ্রিক মত্স্য অধ্যাদেশে হাঙ্গর শিকার নিষিদ্ধ না হলে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী হত্যা নিষিদ্ধ আইনে ছোট হাঙ্গর আহরণ বা নিধন বেআইনি।
