হার্ট বার্ন বা বুক জ্বালা-পোড়া। এ ধরনের সমস্যায় চিকিৎসকরা সাধারণত এক ধরনের ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আর এই ওষুধের নাম হচ্ছে প্রোটেন পাম্প ইনহিবিটরস (পিপিআই)। এই পিপিআই গ্রুপের ওষুধের মধ্যে রয়েছে ওমিপ্রাজল, ইসোমিপ্রাজল, ল্যান্সোপ্রাজল এবং বিভিন্ন ওভার দ্য কাউন্টার প্রডাক্ট। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপসহ বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ হার্ট বার্ন বা বুক জ্বালাপোড়া বা পেটের গ্যাসের সমস্যায় এ ধরনের ওষুধ সেবন করে থাকেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞগণ গবেষণায় দেখেছেন অন্তত ৪০ ভাগ রোগীর এ ধরনের ওষুধ সেবনের কোনো প্রয়োজন নেই।
আরও উদ্বেগজনক তথ্য হচ্ছে, দীর্ঘ দিন এ ধরনের ওষুধ সেবন করা হলে মারাত্মক সব রোগ ব্যাধি হবার ঝুঁকি থাকে। এ ব্যাপারে হেলথ কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) জরুরি ক্ষেত্রে যেমন: স্টোমাকের এসিডিটি বা এসিড রিফ্ল্যাক্স, আলসার অথবা স্টোমাক ব্লিডিং ছাড়া এ ধরনের ওষুধ সেবন না করার জন্য সতর্ক করে দিয়েছে। আর যদি এ জাতীয় ওষুধ সেবন করতেই হয় তা কয়েক সপ্তাহের বেশি সেবন করা যাবে না।
এ ব্যাপারে জেএএমএ ইন্টারন্যাশনাল মেডিসিন জার্নালে পিপিআই গ্রুপের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি এসব ওষুধ সেবন করা হলে যেসব সমস্যা হতে পারে তন্মধ্যে রয়েছে, বোন ফ্রাকচার, হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস বা হাড়ের শক্তি কমে যাওয়া, নিউমোনিয়া, ম্যাগনেমিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়া, দীর্ঘমেয়াদি কিডনির সমস্যা হওয়া ইত্যাদি।
এ ব্যাপারে মন্ট্রিলের ম্যাকগ্রিল ইউনিভার্সিটির ইন্টারনাল মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ ড. এমিলি ম্যাক ডোনাল্ড উল্লেখ করেছেন, প্রায় ৪০ ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় এ ধরনের ওষুধের কোনো প্রয়োজন ছিল না।
এ ব্যাপারে ড. ম্যাকডোনাল্ডের পরামর্শ হচ্ছে, যাদের হার্ট বার্ন বা বুক জ্বালাপোড়া সমস্যা আছে তাদের এসিডিক ও স্পাইসি ফুড পরিহার করা, অ্যালকোহল পান কমিয়ে দেয়া, স্মোকিং ও চকলেট পরিহার, ঘুমানোর সময় খানিকটা উঁচু বালিশ ব্যবহার এবং পিপিআই ওষুধ সেবন শুরুর পূর্বে এন্টাসিড অথবা হিস্টামিন-২ রিস্পিটর ব্লকার যেমন- নিউটেক জাতীয় ওষুধ সেবন করা ইত্যাদি অনুসরণ করা উচিত।
লেখক : চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ
