দখল-ভরাটে নিশ্চিহ্নের পথে বুড়িগঙ্গার উৎসমুখ: বাপা

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১৯:২৫
 
বেপরোয়া দখল-ভরাটে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে বুড়িগঙ্গার উৎসমুখ। বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বুড়িগঙ্গা রিভারকিপারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন।
 
সংবাদ সম্মেলন বক্তব্য রাখেন বাপার যুগ্মসম্পাদক ও বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার শরীফ জামিল, বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন ও বাপার বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক মিহির বিশ্বাস।
 
শরীফ জামিল বলেন, ধলেশ্বরী থেকে আসা আদি বুড়িগঙ্গা বসিলা পর্যন্ত সমগ্র অংশেই কোনো না কোনোভাবে দখল প্রক্রিয়া চলমান। যার মধ্যে চুনারচর, ভাড়ালিয়া পাড়া, মুগড়াকান্দা, উত্তর বাহেরচর এলাকা, টোটালিয়া পাড়া, চর ওয়াসপুর এলাকায় বড় আকারের দখল লক্ষ্য করা যায়।
 
তিনি বলেন, আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যানকে প্রধান করে দ্বিতীয় চ্যানেল পুনরুদ্ধারের জন্য কমিটি করা হয়েছে। কিন্তু এই কমিটির কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো দেখতে পাইনি।
 
তিনি আরও বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীকে অস্তিত্বের হুমকি থেকে রক্ষার জন্য এর উত্সমুখ ও দ্বিতীয় চ্যানেলসহ সম্পূর্ণ বুড়িগঙ্গা থেকে যে কোন ভরাট ও নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে হবে এবং নদীর সীমানা যথাযথভাবে চিহ্নিত করে ব্যতিক্রমহীনভাবে সকল অর্থেই স্থাপনা উচ্ছেদ করে বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানোর পদক্ষেপ অবিলম্বে গ্রহণ করতে হবে।
 
ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, আমাদের প্রিয় ঢাকা মহানগরীর মূল জীবনী শক্তি, পরিস্কার পানির স্রোতধারা, আমাদের প্রাণপ্রিয় বুড়িগঙ্গা আজ ধ্বংসের মুখে। বুড়িগঙ্গা রক্ষার জন্য আমরা বিগত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছি।
 
তিনি বলেন, আমাদের দাবির মুখে সরকার বিভিন্ন সময় বুড়িগঙ্গা রক্ষায় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও মাঝ পথেই তা থেমে যায়। কার্যকর সুফল আমরা দেখতে পাইনি। দখল-দূষণ বন্ধ করে এবং নির্মোহভাবে দখল উচ্ছেদ করে, বুড়িগঙ্গা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।