গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার খোর্দ্দা গ্রামে স্বেচ্ছাশ্রমে গড়া বাঁশের সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় উপজেলা সদরের সাথে ওই ইউনিয়নের দুই গ্রামের প্রায় ছয় হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যাহত হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত খোর্দ্দা গ্রামের পশ্চিম পাশে অবস্থিত তাম্বুলপুর বিল। এই বিলে প্রায় সারা বছরই পানি থাকে। কিন্তু বিল পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে খোর্দ্দা ও পার্শ্ববতী লাটশালা গ্রামের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। পাশাপাশি একই ইউনিয়নের ঘগোয়া গ্রামের লোকজনকে প্রয়োজনে ওই দুই গ্রামে যেতে একই সমস্যায় পড়তে হতো। গ্রাম তিনটির প্রায় দশ হাজার মানুষ কখনো নৌকায়, কখনো ভেলায় কখনো সাঁতরিয়ে পারাপার হতেন।
বিশেষত তাম্বুলপুর বিলটি উপজেলা শহরের সাথে খোর্দ্দা ও লাটশালা গ্রাম দুইটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। বিলটি পারাপার ছাড়া দুই গ্রামের লোকজনের উপজেলা শহরে যাতায়াতের কোনো উপায় নেই। এছাড়া দুই গ্রামে চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
এই বাস্তবতায় ২০১৪ সালে তিন গ্রামের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে ১৯৫ ফুট দৈর্ঘ্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করে। কেউ বাঁশ, কেউ টাকা, কেউ শ্রম দিয়ে সহায়তা দেয়। এতে লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়। কিন্তু গত বছরের ২০ মে ঝড়ে সাঁকোটি বিধ্বস্ত হয়। ওই সালের আগষ্ট মাসে সেটি স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করা হয়। কিন্তু গত দুইমাস ধরে সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দুই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের চিত্র। সংস্কারের অভাবে সাঁকোর অনেক স্থানে বাঁশ নষ্ট হয়ে গেছে। খুঁটি নিচের অংশ পচে যাওয়ায় সাঁকোটি নড়বড়ে হয়েছে। পারাপার হতে সাঁকোটি দোল খায়। ঝুঁকি নিয়ে মানুষ পায়ে হেঁটে পারাপার হচ্ছেন।
সাঁকো পারাপারের সময় খোর্দ্দা গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল জানান, আগে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। তাই বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। এটি দুই গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা। কিন্তু সাঁকোটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ। সাঁকো দিয়ে পায়ে হেঁটেও পারাপার হতে ভয় লাগে। উপজেলা প্রশাসন ও তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
খোর্দ্দা গ্রামের নামাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজনু মিয়া বলেন, শিশুরা বিল পার হয়ে ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। এটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন দুই পাড়ের লোকজন। তাই সাঁকোর স্থলে সেতু নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ বলেন, সাঁকোটি মেরামতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হাই মিলটন বলেন, সাঁকো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবো।
