পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা সদরের সোনাপোতা গ্রামের শ্রী শ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায় হত্যাকান্ডের মূল হোতাসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একইসাথে পুলিশ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা সকলেই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জামায়াতুল মোজাহেদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর সক্রিয় সদস্য।
শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানা চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হুমায়ুন কবির এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, 'পুরো ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন হয়েছে। হত্যায় সরাসরি জড়িত এমন তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।'
পুলিশ পার্শ্ববর্তী এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত দুই একটি বিদেশী পিস্তল, তিনটি ককটেল, পাঁচ রাউন্ত পিস্তলের গুলি, তিনটি ম্যাগজিন ও তিনটি ছুরি উদ্ধার এবং ঘটনায় সরাসরি জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এরা সবাই জামায়াতুল মোজাহেদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য। উদ্ধারকৃত ৯ এমএম পিস্তলটিতে ইংরেজিতে মেড বাই জাপান এবং ৭.৬৫ এমএম পিস্তলটিতে মেড ইন ইউএসএ লেখা রয়েছে।'
হুমায়ুন কবির বলেন, 'এর আগে রংপুরে জাপানী নাগরিক কুনিও হোসি হত্যাসহ উত্তরবঙ্গে সংঘটিত ঘটনাগুলোতে এমন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। গ্রেপ্তাকৃতদের নাম ঠিকানা তদন্তের স্বার্থে আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছেনা। গ্রেফতারকৃতদের মিডিয়ার সামনে আনা হয়নি।'
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পুরোহিতকে জবাইকারী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করেছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আটজন এ ঘটনায় জড়িত। এদের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকী দ’ুজনেক শিগগিরই গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
ডিআইজি সাংবাদিকদের জানান, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি, সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএমবি এই নৃসংশ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।
এ সময় পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার গিয়াসউদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীন মোহাম্মদ, এএসপি সার্কেল কফিল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত রোববার সকালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাপোতা গ্রামে দুর্বৃত্তরা সন্ত গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর রায়কে গলা কেটে হত্যা এবং সেবায়েত গোপাল চন্দ্রকে গুলি করে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় ওই দিনই নিহত যজ্ঞেশ্বরের বড় ভাই রবীন্দ্রনাথ রায় এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের উপ পরিদর্শক মজিবর রহমান পৃথক দু’টি মামলা করেন। দু’টি মামলাতে অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামী করা হয়।
