গ্রন্থমেলায় মুক্তিযুদ্ধের তথ্যভিত্তিক বইয়ের বেশ অভাব

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২১:২৯
অমর একুশে গ্রন্থমেলার সাথে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা জড়িয়ে আছে। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই বাঙালি অর্জন করেছে মহান স্বাধীনতা। অথচ ইতিহাসের আকড় এই দুই ঘটনার উপর একুশের গ্রন্থমেলায় মানসম্মত বই খুব একটা দেখা যায় না। অথচ এই দুইটি বিষয়ের উপর প্রতিবছরই কমবেশি বই আসছে।
 
এ বিষয়ে কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও প্রকাশকদের মধ্যে নানা মত থাকলেও, তথ্যভিত্তিক ও মানসম্মত বই বা সম্মুখ সমরযুদ্ধের কাহিনী সম্বলিত বই যে আসছে না, সে বিষয়ে তারা একমত।তথ্যভিত্তিক বইয়ের চেয়ে সংকলিত বা সম্পাদিত বইয়ের সংখ্যাই বেশি বলেও বিশিষ্টজনেরা জানান। এবারও মেলার ২৬তম দিন পর্যন্ত এ বিষয়ে বই এসেছে মাত্র ৯০টি। সেখানেও একই চিত্র দেখা গেছে। এ দুই বিষয়ের উপর তথ্যভিত্তিক বই নেই বললেই চলে, রয়েছে উপন্যাস, কবিতা বা সংকলিত ও সম্পাদিত বই।
 
মুক্তিযুদ্ধের বই প্রসঙ্গে লেখক ও প্রকাশকদের মতামত প্রসঙ্গে কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির জীবন থেকে হারানোর নয় এবং কখনও মুছে ফেলা যাবে না। এ নিয়ে লেখালেখি চলবেই। হাজার বছর লিখলেও এ বিষয়ে লেখার কমতি হবে না। তবে বাঙালির জীবনের এই বিশাল অর্জনের সৌন্দর্য যাতে নষ্ট না হয়, তা ভেবে লেখালেখি করা উচিত। আমাদের মনে রাখতে হবে মুক্তিযুদ্ধের পেছনে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান এবং তিন লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম ও ত্যাগের বিষয়টি রয়েছে। তাই যাদের জন্ম মুক্তিযুদ্ধের পরে, অথচ এখন এ বিষয়ে লেখালেখি করছেন, তারা একটু ভেবে চিন্তে লেখালেখির কাজটি করবেন। যেন মুক্তিযুদ্ধ হাস্যকর হয়ে না ওঠে।
 
করুণাময় গোস্বামী বলেন, মেলায় প্রতিবছর বহু বই আসে, কিন্তু সেখানে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের তথ্যভিত্তিক বই খুব দেখা যায় না। তবে মেলার এটাও একটা ধরণ, সেখানে সব ধরণের বই থাকবে। এর মধ্যে যে বইগুলো ভাল সেগুলো টিকে থাকবে, আর অন্যগুলো সময়ের ধারাবাহিকতায় হারিয়ে যাবে। আমাদের মেলায় তিনি একটি বিষয় বেশ লক্ষ্য করেন। 
 
আহমদ পাবলিশার্সের প্রকাশক মেজবাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের বই তারাই প্রথম প্রকাশ করে, ১৯৭২ সালে। সেটি জেনারেল সুবিদ আলী ভূঁইয়ার 'মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস'।আর এ পর্যন্ত তাদের প্রকাশনা সংস্থা থেকে ২৫টির মত মুক্তিযুদ্ধের বই প্রকাশ করেছি। এখন বাজারে বিভিন্ন প্রকাশকের মুক্তিযুদ্ধের উপর যেসব বই আছে, তা নিয়ে তিনি কোন কথা বলতে চান না।