‘পর্যটন থেকে জিপিডি চার শতাংশে উন্নীত করা হবে’

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১৮:২৮
বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, বাংলাদেশে পর্যটকদের আগমন সংখ্যা আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে ১০ লাখে উন্নীত হবে। পর্যটন থেকে জিপিডি দুই থেকে চার শতাংশে উন্নীত করা হবে।
 
শনিবার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার নাটেশ্বরে মাটির নিচে সন্ধান পাওয়া হাজার বছরের প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির পরিদর্শনের সময় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর উপস্থিত ছিলেন।
 
পরিদর্শন শেষে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর, সংস্কৃতি সচিব আক্তারী মমতাজ ও চীনা দূতাবাসের ডেপুটি মিশন প্রধান ইয়াং সিচো। প্রকল্প পরিচালক নূহ উল আলম লেনিনের সভাপতিত্বে স্বাগত ভাষণ দেন খনন কাজের নেতৃত্ব দানকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মুস্তাফিজুর রহমান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন দুই মন্ত্রী।   
 
পর্যটনমন্ত্রী বলেন, খনন কাজ সম্পন্ন হলেই নাটেশ্বরকে পর্যটক উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশে পর্যটকদের আগমন সংখ্যা আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে ১০ লাখে উন্নীত করা হবে। পর্যটন থেকে জিপিডি দুই থেকে চার শতাংশে উন্নীত করার হবে।
 
তিনি বলেন, একজন পর্যটকের আগমনে ১১টি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। পর্যটক যেখানে গমন করেন, সেই স্থানটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত হয়। পর্যটনের বিভিন্ন দিক রয়েছে। এর মধ্যে ধর্মীয় তীর্থ স্থান অন্যতম। তাই নাটেশ্বরের বৌদ্ধদের প্রাচীন তীর্থ স্থানের স্থাপত্যটি ঘিরে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
 
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, সরকার নিয়ন্ত্রকের কাজ করছে, সুযোগ ও ক্ষেত্র তৈরি করছে, বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় বিশেষঞ্জ, সহায়তা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে দেয়। আর ভালো কাজের সঙ্গে স্বাধীনভাবে জনগণকে সম্পৃক্ত করে। তাহলেই সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে।
 
দুই মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান। তারা এই সম্ভবনাময় নাটেশ্বরকে ঘিরে কি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে এবং বিক্রমপুরের পানাম নগরীর চেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে মিরকাদিমের নগর কসবায়। রামপাল দিঘি, হরিশ রাজার দিঘি, বাবা আদমের মসজিদ, ইটের পুল জোরা মঠ, ইদ্রাকপুরের কেল্লাসহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নানা প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ। এ সব নিয়ে পর্যটন জোন গড়ে তোলা সম্ভব ঢাকার কাছের এই মুন্সীগঞ্জে।
 
মুন্সীগঞ্জ তথা বিক্রমপুরে পর্যটন শিল্পের নতুন সম্ভবনার দ্বার উন্মেচিত হচ্ছে। মাটির নিচে পাওয়া মন্দির কমপ্লেক্সটির চারদিকে চারটি বড় হলঘর রয়েছে। এসব হলঘরগুলোতে রয়েছে প্রায় স্তুপ ধরনের ১৬টি পিলার। আর মাঝে রয়েছে মূল মন্দিরের অংশ বিশেষ। মন্দির কমপ্লেক্স থেকে প্রাপ্ত উপকরণ যুক্তরাষ্ট্রের বেটা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার সম্পন্ন হয়েছে। এতে নিশ্চিত হওয়া গেছে- এসব স্থাপনা হাজার বছরের প্রাচীন। অর্থাৎ প্রাপ্ত কাঠ কয়লায় পরীক্ষা করে দেখা গেছে এখানকার এই প্রত্নস্থানে দুটি পর্যায়ের মানব বসতি ছিল। প্রথম পর্যায় ৭৮০-৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ এবং দ্বিতীয় পর্যায় ৯৫০-১২২৩ খ্রিষ্টাব্দে। আবিষ্কৃত মৃৎপাত্রগুলোকে লাল এবং কালো শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। মৃৎপাত্রের মধ্যে অধকাংশ সঞ্চয় আধার, রান্নার হাড়ি, গামলা, পানির পাত্র, প্রদীপ প্রভৃতি। মৃৎপাত্রগুলো বিভিন্ন নকশায় পরিলক্ষিত হয়। ভাঙ্গা মৃৎপাত্র অংশ থেকে গত জুন মাসে চীন থেকে আগত ৩ জন মৃৎপাত্র বিশেষজ্ঞ প্রায় ১ মাস কাজ করে ১০০ মৃৎপাত্র জোড়া লাগিয়েছে।