রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় চেঙ্গি নদীর ওপর ৫০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। ১২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সেনাবাহিনীর ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন ব্যাটেলিয়ান (ইসিবি) সেতুটি নির্মাণ করছে। এর মধ্যে আস্তে আস্তে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে সেতুটি।
রাঙ্গামাটি জেলার সঙ্গে নানিয়ারচর, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলা সড়ক যোগাযোগে বড় বাঁধা চেঙ্গি নদী। একটি সেতুর অভাবে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হতো কয়েক লাখ মানুষ। তবে এসব উপজেলার মানুষের বহুদিনের দাবি পূরণ হচ্ছে। চেঙ্গি নদীর ওপর নির্মিত হচ্ছে সেতু। এতে এলাকার বসবাসরত সাধারণ মানুষের মনে খুশির জোয়ার বয়ে যাচ্ছে।
গত বছরের ১৬ নভেম্বর এর নির্মান কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জুন মাসে অতি বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের কারণে হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেতুর এখনও অর্ধেক কাজ বাকি। এলাকাবাসী মনে করেন, চেঙ্গি নদীর ওপর সেতুটি নির্মিত হলে ভাগ্য খুলে যাবে জেলার নানিয়ারচর, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের।
এ ব্যাপারে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রগতি চাকমা বলেন, সেতুর নির্মাণ কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। এই সেতু হলে নানিয়ারচরের মানুষের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ হবে। এই সেতু দিয়ে ঢাকা চট্টগ্রামসহ অন্যান্য জেলায় অনায়াসে যাতাযাত করতে পারবে এখানকার বসবাসরত সাধারণ মানুষ।
রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য ত্রিদীব কান্তি দাশ জানান, এ বছর জুন মাস থেকে বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে চেঙ্গী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেতুর নির্মাণ কাজ বিলম্বিত হয়। ফলে এ বছর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ২০১৯ সালের ভিতরে এ কাজ সম্পন্ন করা যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সেতু নির্মান হলে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির ৪টি উপজেলার সঙ্গে সমগ্র দেশের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। আর তাতে পাহাড়ের অনগ্রসর একটি অংশে এই সেতু খুলে দেবে সম্ভাবনার দুয়ার। এতে করে নানিয়ারচর, লংগদু, বাঘাইছড়িতে উৎপাদিত পণ্য সহজে বহনের মাধ্যমে বাজারজাত করতে পারবে।
ইত্তেফাক/নূহু
