‘বিদায় বাঁশির সুর’

আপডেট : ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ০৯:০৫
গত কয়েকটা বছরই বড্ড অস্থিরতায় কেটেছে বইমেলা। এ বছর পুরো মেলার সময়টা সাবলীলভাবে পেরিয়ে গেল। হরতালের উত্তেজনা নেই, আন্দোলনের ঘনঘটা নেই। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল নিরুত্তাপ। আর সে কারণে মেলার উত্তাপ যত দিন গেছে ততই বেড়েছে। নতুন বই, ঝলমলে প্রচ্ছদ, লেখক-পাঠকের আনাগোনায় জমজমাট ছিল পুরো মাস। আজ মেলার শেষ দিন। মেলার দ্বার খুলবে বেলা একটায়। শেষবারের মতো বইপ্রেমীরা আসবেন বইমেলায়। আরো কিছু কেনার বাকি যা রয়েছে সংগ্রহ করবেন। আর না কিনলেই বা কী। বই তো পরে দোকানে পাওয়া যাবেই। কিন্তু এই আড্ডামুখর পরিবেশের জন্য তো প্রতীক্ষায় কাটবে সামনের পুরোটা বছর।
 
গতকাল স্টলগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। বিক্রয়কর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করেছেন। এদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, লিটল ম্যাগাজিন চত্বর, নজরুল মঞ্চের পাশে জমে উঠেছিল আড্ডা। অবসর প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক মাসুদ রানা বললেন, ‘নানা অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও এবার মেলা ভালো হয়েছে। বইয়ের বিক্রিও বেশ ভালো। আশা করি আগামীবার আরও সুন্দর পরিকল্পনা করে বইমেলার আয়োজন করা হবে।’
 
যুব জাগরণের উদ্যোগ
এবারের বইমেলায় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের স্টল ‘যুব জাগরণ’ এক অনন্য উদ্যোগ নেয়। মাত্র একশ টাকায় তারা পাঠকের হাতে তুলে দেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার লেখা ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ বই দুটি। মেলার ২৮তম দিন পর্যন্ত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার কপি। আর ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ বইটি বিক্রি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কপি। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনিরুল ইসলাম হাওলাদার জানান, চার বছর ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ একুশে গ্রন্থমেলায় বইয়ের স্টল দিচ্ছে। এ স্টলে যুবলীগের নিজস্ব প্রকাশনা, বঙ্গবন্ধু কন্যা  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার লেখা বই রাখা হয়। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধুর জীবনী পৌঁছে দিতে ভর্তুকি দিয়ে সেসব বই বিক্রি করা হয়েছে।
 
নতুন বই
বাংলা একাডেমির তথ্যমতে গতকাল নতুন বই এসেছে ৯২টি। এর মধ্যে গল্প ৬, উপন্যাস ৭, প্রবন্ধ ৪, কবিতা ২৯, গবেষণা ৩, ছড়া ৩, শিশুতোষ ৪, জীবনী ১, রচনাবলি ১, মুক্তিযুদ্ধ ৫, নাটক ২, বিজ্ঞান ২, ইতিহাস ২, চিকিত্সা স্বাস্থ্য ৩, অনুবাদ ২, সায়েন্সফিকশন ২, অন্যান্য ১৬। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে দি ইউনিভার্সাল একাডেমি এনেছে হোসনে আরা বেগমের ‘ঝিনুকে আমার মুক্তো’, সাহিত্যদেশ এনেছে সুষমা নার্গিস স্বপ্নার ‘অব্যক্ত পঙিক্তমালা’, ও মোরশেদ ইকবালের ‘বিনীতা ও এক শ্রাবণ রাত্রি’, টুম্পা প্রকাশনী এনেছে হারুন অর রশিদের ‘৭১ বীরাঙ্গনা’, ইউজিসি এনেছে সুকোমল বড়ুয়ার বাংলাদেশে ‘পালি ও বৌদ্ধবিদ্যা চর্চা’, বাংলালিপি এনেছে রাসেল আশেকীর ‘মাটির গিটার’, জোনাকী প্রকাশনী এনেছে ঝর্না মনির ‘জ্বলে ওঠা বারুদ কন্যা’, অমর প্রকাশনী এনেছে সমর কৃষ্ণ লিটুর ‘একটি যুদ্ধে বাসন্তিকার স্থান।
 
মূলমঞ্চে অনুষ্ঠান
গতকাল মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ডিজিটাল মুক্তিযুদ্ধের কৌশল শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জাতীয় সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যামসুন্দর সিকদার, ড. মাহবুবুল হক এবং তারিক সুজাত। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।
 
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন লোপা খানের পরিচালনায় আবৃত্তি সংগঠন ‘আবৃত্তিশীলন’ এবং শেখ উজ্জ্বলের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বাঙালি ফাউন্ডেশন’-এর শিল্পীবৃন্দ। সঙ্গীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী অদিতি মহসিন, বুলবুল ইসলাম, ডা. অরূপ রতন চৌধুরী, লাইসা আহমেদ লিসা, মকবুল হোসেন, শারমিন সাথী ইসলাম, ছায়া রানী কর্মকার, জান্নাত এ ফেরদৌসী, সেমন্তী মঞ্জরী এবং সুমা রানী রায়। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন এনামুল হক ওমর (তবলা), গাজী আবদুল হাকিম (বাঁশি), আবু কামাল (বেহালা), দীপঙ্কর রায় (প্যাড) এবং সুনীল কুমার সরকার (কি-বোর্ড)।