শত বছরের পুরনো ঐতিহ্য নিয়ে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহত্ মহাকীর্তি মহাতীর্থস্থান বেলআমলা বারশিবালয় মন্দিরে আগামী ৭ ও ৮ মার্চ দুইদিন ব্যাপী শিবরাত্রি উত্সব ও মেলা শুরু হবে ।
জয়পুরহাট জেলা শহর থেকে তিন কিলোমিটার উত্তরদিকে অবস্থিত বেলআমলা বারশিবালয় মন্দির। যার আধা কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে আরো দুইটি একশিব মন্দির এবং পাঁচশিব মন্দির। ফাল্গুনের চতুর্দশীতে শিবরাত্রি উপলক্ষে শত বছরের পুরনো ঐতিহ্য হিসেবে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও চার প্রহরব্যাপী পূজার পাশাপাশি মেলার আয়োজন করা হবে দুইদিনব্যাপী। দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিপুল সংখ্যক হিন্দু ও মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের ভক্তদের থাকা- খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
মনের নানা বাসনা পুরনের আশায় পূন্নার্থীরা বারশিবালয়ের উত্তর পাশ ঘেঁষে বয়ে যাওয়া ছোট যমুনা নদীর জলে বারুনীস্নান শেষে পূজা অর্চনা শুরু করবেন। মেলায় হাতা, খন্তা, বেরী, দা, বটি, হাসুয়া, পান কাটি, পূজার ঘরের সাজ, বাঁশ-বেতের তৈরি জিনিস পত্র পাওয়া যায়। এছাড়াও কাঠের ও লোহার তৈরি বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্রও পাওয়া যায়। শিশুদের খেলনা, শাঁখা-সিঁদুরসহ মিষ্টি-মিষ্টান্নও পাওয়া যায় এখানে। শিবরাত্রি উত্সব হিন্দু, বিশেষ করে মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উত্সব হলেও বারশিবালয় মন্দির প্রাঙ্গন পরিণত হয় হিন্দু-মুসলিমের অসাম্প্রদায়িক মিলন মেলায়। ৮ মার্চ সন্ধ্যায় জয় মা কালীর অমাবস্যা পূজার মধ্য দিয়ে পূণ্যার্থীদের মিলন মেলা শেষ হবে। সুষ্ঠুভাবে শিবরাত্রি উদযাপনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে পুলিশের পক্ষ থেকে। বারটি শিবমন্দির একসঙ্গে থাকায় এর নাম হয় বারশিবালয়। কত বছর আগে এটি নির্মিত তা সঠিকভাবে জানা না গেলেও দু-আড়াইশো বছর আগের তৈরি হবে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
বারশিবালয় মন্দির কমিটির সভাপতি তারা চাঁদ বাজলা বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মহাতীর্থস্থান বারশিবালয় মন্দিরে শিবরাত্রি উত্সব ও মেলায় সকল ধর্মের লোকজন অংশগ্রহণ করায় এটি অসাম্প্রদায়িক উত্সবে পরিণত হয়।
