চলনবিল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ ও বেত শিল্প

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৬, ০৩:৪৫
চলনবিল অঞ্চল থেকে ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ ও বেত শিল্প। প্লাস্টিকের কদর বেড়ে যাওয়ায় এই কুটির শিল্পের চাহিদা এখন কমে গেছে। তাছাড়া দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে এ শিল্পের কাঁচামাল বাঁশ ও বেত। নির্মাণ ব্যয় বেশি পড়ায় এসব পণ্যের দামও পড়ছে বেশি। ফলে সাধারণ মানুষ ঝুঁকে পড়ছে অপেক্ষাকৃত কম দামে পাওয়া প্লাস্টিক পণ্যের উপর। এভাবেই পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলার চলনবিল এলাকা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ ও বেত শিল্প।

 

এক সময় দেশের বিস্তীর্ণ জনপদে বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি হতো গৃহস্থালী ও সৌখিন পণ্যসামগ্রী। ঘরের কাছের ঝাড় থেকে তরতাজা বাঁশ-বেত কেটে গৃহিনীরা তৈরি করতেন হরেক রকম জিনিস। অনেকে আবার এসব বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু গ্রামীণ উত্সব বা মেলাতে এখন বাঁশ ও বেতজাত শিল্পীদের তৈরি খোল, চাটাই, খালুই, ধামা, টোনা, পাল্লা, মোড়া, বুক সেল্ফ কদাচিত্ চোখে পড়ে। যেখানে তালপাতার হাত পাখারই কদর নেই, সেখানে এসব পণ্য পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার! যতই দিন যাচ্ছে ততই কমে যাচ্ছে এই হস্তশিল্পের চাহিদা। মূল্যবৃদ্ধি, বাঁশ-বেতের দুষ্প্রাপ্যতা আর অন্যদিকে প্লাস্টিক, সিলভার ও মেলামাইন জাতীয় হালকা টেকসই সামগ্রী নাগরিক জীবনে গ্রামীণ হস্তশিল্পের পণ্যকে হটিয়ে দিয়েছে। বেত শিল্পের এই দুর্দিনে চাটমোহর রেল বাজার এলাকায় বেশ কিছু পরিবার এখনও বাঁশ, বেত শিল্পকে আঁকড়ে ধরে আছে। রাস্তার পাশে রয়েছে এ সকল পণ্য বিক্রির বেশ কয়েকটি দোকান।