হাইকোর্টের আদেশ ১৩ বছর পর কার্যকর

অবশেষে মুক্তি পেলেন কলারোয়ার জবেদ আলী

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৬, ২২:২৫
হাইকোর্ট থেকে বেকসুর খালাসের আদেশ পাওয়ার ১৩ বছর পর বুধবার তা কার্যকর করা হয়েছে। ফলে বিনা অপরাধে কারাগারের অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তি পেলেন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার  জবেদ আলী।
 
মেয়ে লিলিকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগে মৃতের মামা আবুল কাশেমের দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় (থানা মামলা নং-৫, জিআর- ১৬৩/৯৪) জবেদ আলী বিশ্বাসকে আসামী করা হয়।
 
পাঁচজন সাক্ষীর জবানবন্দি ও নথি পর্যালোচনা করে অতিরিক্তি জেলা ও দায়রা জজ -২ আদালতের বিচারক মোঃ সিরাজুল ইসলাম ২০০১ সালের পহেলা মার্চ হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে জবেদ আলীকে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরপর জবেদ আলীকে সাতক্ষীরা থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি জেলখানার মাধ্যমে হাইকোর্টে আপিল ( ক্রিমিনিাল জেল আপীল নং-১২৭৩/২০০১)করেন। আপীল মামলায় মহামান্য হাইকোর্ট  থেকে কয়েদী কনভিকশন নং ৩০০৮ /এ সাতক্ষীরা জেলার উক্ত আসামী নির্দোষ প্রমাণে ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ খালাস পান।
 
হাইকোর্টের আদেশ সংশ্লিষ্ট আমলী আদালতে এলে তার সত্যতা যাচাই করে ওই আসামী অন্য কোন মামলা না থাকলে তাকে জেলখানা থেকে মুক্তি দিতে আপত্তি নেই মর্মে জেল সুপারকে নির্দেশ দেওয়ার কথা বলা হয়নি। তাছাড়া সংশিষ্ট আদালতের পেশকার মতিয়ার রহমানের (বর্তমানে মাগুরা জুডিশিয়াল কোর্টের প্রশাসনিক কর্মকর্তা) ভূমিকা নিয়েও সংশয় রয়েছে। ফলে হাইকোর্টের আদেশ নকলখানায় বন্দি হয়ে যাওয়ায় ১৩ বছর ধরে জেলখানায় থাকতে হয় আসামীকে।
 

শুনানীকালে বিচারক জবেদ আলী কিভাবে এতদিন জেল হাজতে রয়েছে তা শুনে বিষ্মিত হন। তাকে খালাসের নির্দেশ দেন। এছাড়া এ হাইকোর্টের আদেশ যথাযথভাবে পালনে ক্রুটির জন্য নিজেই হতাশ হন। তিনি আক্ষেপের সঙ্গে বলেন. যাদের ত্রুটির জন্য জবেদ আলীকে বিনা অপরাধে ১৩ বছর জেলে জীবন কাটাতে হলো তাদের বিচার আল্লাহ্‌ করবে।