কালোমুখোর বংশবিস্তারের ধারা ঠিক রাখতে ‘হনুমানপ্রেমি’ সৃষ্টি

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৬, ১৯:১৮
যশোরের কেশবপুরের বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমানের বংশবিস্তারের ধারা স্বাভাবিক রাখতে ‘হনুমানপ্রেমি’ সৃষ্টি করা হয়েছে। এরকম ১১টি কমিটি গঠন করা হয়েছে স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার ও উত্সাহী সাধারণ মানুষের সমন্বয়ে। তারা কি করলে হনুমান ভালো থাকবে, বেঁচে থাকবে— এরকম সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
 
বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার কেশবপুরে কোনো কর্মসূচি পালন করা হয়নি। তবে খুলনা, চাঁদপাই ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে কর্মসূচি পালন করা হয়।
 
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জাহিদুল কবির ইত্তেফাককে জানান, ‘কেশবপুরে হনুমানের কোলে বাচ্চা দেখে বোঝা যায় তারা স্বাভাবিক অবস্থাতে আছে। তাদের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির জন্য হনুমানের খাবার উপযোগী ১০ হাজার চারা লাগানো হয়েছে। ১১টি কমিটি গঠন করে এসব চারা রক্ষণাবেক্ষণ, হনুমানদের আক্রমন না করার ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এতে মানুষের হাতে হনুমানের প্রাণ হারানো কিংবা এলাকা ছেড়ে চলে যাবার ঘটনা কমে আসছে। এছাড়া গতমাসে নতুন তিনজন বাগানমালী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আগে মাত্র একজন ছিল।’
 
যশোর সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মঈনুদ্দিন খান জানান, ‘কেশবপুরে হনুমানের প্রজনন বৃদ্ধি পেয়েছে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত শুষ্ক মওসুমে ফলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকে না বলে হনুমানেরা কিছুটা সংকটে পরে। তবে এখন সারাবছরই হনুমানদের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এখানকার প্রায় ৩শ’ হনুমানের জন্য প্রতিদিন ২ হাজার ১শ’ ৮ টাকা বাজেট বরাদ্দ রয়েছে। এ টাকায় পাকা কলা, বাদাম ও পাউরুটি সরবরাহ করা হচ্ছে। কেশবপুর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন বন বিভাগের অফিস, পশু হাসপাতাল, রামচন্দ্রপুর, ব্রক্ষকাঠি, শ্রীগঞ্জ বকুলতলা, ও দুর্গাপুরের নির্দিষ্ট ‘ফিডিং সেন্টারে’ প্রতিদিন হনুমানদের খাবার সরবরাহ করা হয়।’
কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও পৌর বিএনপি সম্পাদক আলাউদ্দীন আলা ইত্তেফাককে জানান, কমিটি গঠন করে হনুমানদের ব্যাপারে মানুষের সহানুভূতি সৃষ্টিতে আমরা সচেতনতা তৈরি করেছি। এতে হনুমান কেশবপুর শহর থেকে আশেপাশের গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে।’ IMG0
 
বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উদযাপন : ‘আমাদের হাতেই বন্যপ্রাণীর ভবিষ্যত্ (The Future of Wildlife is in Our Hands)’ শীর্ষক শ্লোগানে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকালে বন বিভাগ, খুলনা সরকারী মহিলা কলেজ ও ইউএসএইডের বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প, ওয়াইল্ড টিমের যৌথ উদ্যোগে খুলনা সরকারী মহিলা কলেজে সচেতনতাধর্মী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মাদ আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক জহির উদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি এবং শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খান আহমেদুল কবির ও খুলনা সরকারী মহিলা কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. বিবেকানন্দ বিশ্বাস বিশেষ অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠানে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. জাহিদুল কবির সবাইকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য শপথবাক্য পাঠ করান।