মুন্সীগঞ্জে কন্যা সন্তান সম্ভ্যবা হওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যা

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৬, ২২:৩৬
টঙ্গীবাড়ী উপজেলার চাষিরী গ্রামে কন্যা সন্তানকে গর্ভে ধারণ করায় গৃহবধূ মাহমুদা আক্তারকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
 
নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে অঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী আবু সাঈদের পরিবারের সকল সদস্য পলাতক রয়েছে। এদিকে ঘাতক স্বামী চাষীরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু সাঈদকে (৪০) পুলিশ আটক করলেও ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারায় চালান করার প্রক্রিয়া চলছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে।
 
পুলিশ এ  ব্যাপারে কোন অভিযোগ নিচ্ছেনা বলে ভুক্তভোগী পরিবারটি অভিযোগ করেছে। নিহত গৃহবধূর বোন লাবনী আক্তার জানান, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ওই এলাকার প্রভাবশালীরা চাপ সৃষ্টি করছে।
 
জানা গেছে, ২০১১ সালে পুড়াপাড়া গ্রামের আ. ছাত্তার এর মেয়ে মাহমুদা আক্তারের সাথে চাষিরী গ্রামের আবু সাঈদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের ঘরে তাসনিম নামের সাড়ে ৩ বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। ওই কন্যা সন্তান জন্মের পর হতে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মনোমালিন্য দেখা দেয়। মাহমুদা আবার সন্তান সম্ভ্যবা হলে ৮ মাসের অন্তসঃত্ত্বা অবস্থায় কিছুদিন আগে আলট্রাসনোগ্রাফি করানো হয়। তার গর্ভে কন্যা সন্তান রয়েছে বলে চিকিৎসক জানায়।
 
এ নিয়ে আবু সাঈদ স্ত্রীর উপর নির্যাতন শুরু করে এবং সে মারা গেলে তার কবরে বার্তি দেওয়ার কেউ থাকবেনা বলে স্ত্রীকে প্রায় বকাঝকা ও মারধর করে। পরে আবু সাঈদ তার শাশুড়ি জোছনা বেগমকে মোবাইল ফোনে জানান, আপনার মেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে তাকে টঙ্গীবাড়ী ইউনাইটেড ক্লিনিকে নিয়ে আসা হয়েছে। পরে ক্লিনিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।
 
এ ব্যাপারে আবু সাঈদ সাংবাদিকদের জানান, আমার স্ত্রীর আগে একটি কন্যা সন্তান হয়েছে পরে আরেকটি কন্যা সন্তান সম্ভ্যবা হওয়ায় সে নিজেই আত্মহত্যা করেছে।
 
টঙ্গীবাড়ী থানা ওসি আলমগীর হোসাইন জানান, হত্যার ব্যাপারে সুনিদিষ্ট অভিযোগ কিংবা নিহতের শরীরে হত্যা হলে যে ধরনের অঘাত থাকা প্রয়োজন সে ধরনের অঘাত না থাকায় গ্রেফতারকৃতকে ৫৪ চালান দেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসলে যথাযথ আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।  তবে আসামি যাতে জেল-হাজতে আটক রাখা হয় সেভাবে লিখে দেওয়া হচ্ছে।