তীব্র প্রদাহের কারণে টনসিলের উপরে ও আশপাশে এবং টনসিলের ক্যাপসুলের পাশে পুঁজ জমা হয়। যথাযথ চিকিৎসা না করালে টনসিলের ইনফেকশনের জটিলতা থেকে এ রোগ হতে পারে। এ রোগে তীব্র গলা ব্যথা হয়। টনসিলের ফোড়া সাধারণত বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়। টনসিলাইটিস বা টনসিলে প্রদাহ যদিও দুই পাশে হয় কিন্তু পেরিটনসিলার অ্যাবসেস সবসময় একপাশে হয়ে থাকে।
রোগের লক্ষণসমূহ :
১. টনসিলের ফোড়া প্রাপ্তবয়স্কদের বেশি হয়।
২. তীব্র গলা ব্যথা।
৩. উচ্চ তাপমাত্রা (১০০°F-১০৪°F) পর্যন্ত হতে পারে।
৪. খাবার খেতে কষ্ট ও মুখ হা করতে অসুবিধা হয়।
৫. কানে ব্যথা হতে পারে।
৬. মুখ দিয়ে লালা বের হয় ও কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে যেতে পারে।
৭. মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে পারে।
রোগীর গলা পরীক্ষা করলে দেখা যাবে টনসিল ও টনসিলের উপরিভাগ, তালু লাল হয়ে ফুলে আছে। চিকিৎসা বিলম্ব করলে রোগীর মুখ হা করতে কষ্ট হয় এবং আরো বিলম্ব হলে ফোড়াটা ফেটে পুঁজ বের হয়ে আসতে পারে।
জটিলতাগুলো
১. ইনফেকশন শ্বাসনালী পর্যন্ত ছড়িয়ে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
২. গলাতে সেলুলাইটিস হতে পারে।
৩. সেপটিসেমিয়া বা ইনফেকশন সমগ্র শরীরে ছড়াতে পারে।
৪. পুঁজ ফুসফুসে গিয়ে নিউমোনিয়া হতে পারে।
চিকিৎসা
১. ছোট অপারেশনের মাধ্যমে কেটে পুঁজ বের করে দিতে হবে।
২. কালবিলম্ব না করে প্রথমে অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন এবং পরে মুখে খাবার অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে।
৩. ব্যথার জন্য ওষুধ দিতে হবে।
৪. অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে গড়গড়া করতে হবে।
৫. ছয় সপ্তাহ পর টনসিল অপারেশন করে নিলে ভালো হয়, অন্যথায় একই সমস্যা আবার হতে পারে।
