ইউপি নির্বাচন: প্রচারণায় হুমকি, বাধা ও সংঘর্ষ

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৬, ২০:২০
প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে বিভিন্নস্থানে প্রার্থীদের হুমকি, বাধা দেয়া ও সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দ্বিতীয় ধাপে যেসব ইউপিতে নির্বাচন হবে সেখানেও ঘটছে এমন সংঘর্ষ। 
 
যেসব এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত ও দলটির বিদ্রোহী রয়েছে সেসব জায়গায় মূলত সংঘাত-সংঘর্ষ বেশি হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের হুমকি ও প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকার সমর্থকদের দাপটে বিরোধী দল সমর্থক প্রার্থীরা কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। 
 
এদিকে, নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণে শতাধিক উপজেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাঠে নামানো হয়েছে। প্রতি উপজেলায় একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে অভিযোগ উঠেছে, মাইক্রোফোনের ব্যবহারের নিয়ম, মিছিল বা শো-ডাউন, সভা-সমিতির বাধা-নিষেধ কোন কিছুই তোয়াক্কা করছেন না প্রভাবশালী প্রার্থীরা। 
 
আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, নোয়াখালীর হাতিয়ায় পাঁচটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ সহ আহত-৪১ জন।  
 
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের হামলা হয়। গাড়ি ভাংচুর অগ্নিসংযোগে দুইজন আহত হন সেখানে। 
 
খুলনার বটিয়াঘাটায় ইউপি নির্বাচনী প্রচারণাকালে সংঘর্ষে বিএনপির প্রার্থীসহ আহত হয়েছেন ১৫ জন। নরসিংদীর পলাশে গজারিয়ায়  মেম্বার প্রার্থীর উপর দুর্বৃত্তের হামলায় ২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ডাঙ্গায় বাড়ি ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। 
 
বাগেরহাটের ফকিরহাটে ইউপি নির্বাচনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 
 
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দ্বিতীয় ধাপের মনোনয়ন বাছাইয়ে যোগ দিতে যাওয়াদের এমপির ভাই বাধা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। 
 
ঢাকার ধামরাইয়ে সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনীত প্রার্থী(মেম্বার) ছাড়া অন্য প্রার্থীদের হুমকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
 
হাতিয়া (নোয়াখালী)সংবাদদাতা জানান, শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালে হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর, চরকিং,সোনাদিয়া,জাহাজমারা ও নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশ সহ ৪১ জন আহত হয়। সংঘর্ষে ১০/১২ টি মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। আহতদের মধ্যে গুরুতর ১৪ জনকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।