খানেপাড়া জমিদার বাড়ি ধ্বংসের পথে

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৬, ০২:৪৯
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রুপসদী গ্রামের শতবর্ষের খানেপাড়া জমিদার বাড়িটি এখন ধ্বংস হতে বসেছে।
 
১৯১৫ সালে ভারত থেকে নকসা ও রাজমিস্ত্রী এনে তীর্থবাসী চন্দ্র রায় ৫ একর জমির উপর এ অট্টালিকা নির্মাণ করেন। এ বাড়িতে ৩টি পুকুর ছিল। বড় বড় মাছ ছিল এসব পুকুরে। পুকুর দেখাশোনা করার জন্য ২০ জন লোক কাজ করতো। এক সময় বিরাট বৈশাখী মেলা বসতো এই জমিদার বাড়িতে।
 
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লোক বৈশাখী উত্সব উদযাপন করার জন্য এ জমিদার বাড়িতে ভিড় জমাতো। একটি বড় পূজা মণ্ডপ ছিল পূর্ব দিকে। সার্বক্ষণিক কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকতো এ জমিদার বাড়িতে।
 
তখনকার আমলের যারা এখনো বেঁচে আছেন তাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, জমিদার তীর্থবাসী চন্দ্র রায় বহু চিন্তাভাবনা করে রুপসদী গ্রামের সর্বশেষ পূর্ব পাশে নির্মাণ করেন এ অট্টালিকা।
 
এখানে বসে খাজনা আদায় করা হতো। জমিদার তীর্থবাসী চন্দ্র রায় রাজকীয় ভঙ্গিতে ঘোড়া চড়ে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতেন। তার ছেলে মহিষ চন্দ্র রায় এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ১৯১৫ সালে সাড়ে চার একর জমির উপর নির্মাণ করেন রুপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়।
 
একই সালে তার বাবা তীর্থবাসীর স্মৃতি রক্ষায় নির্মাণ করা হয় একটি বিরাট মঠ। জমিদার বাড়িতে এখন আর পূজা হয় না, কীর্তনের আসর বসে না, হয় না বৈশাখী মেলা। কালের পরিবর্তনে জমিদার বাড়িটি এখন অন্ধকারে নিমজ্জিত।
 
স্থানীয়রা জানান, বৃন্দাবন রায়ের ছিল ২ ছেলে, তীর্থবাসী রায় ও নদীয়াবাসী রায়। তীর্থবাসী রায়ের ছিল এক ছেলে মহিমচন্দ্র রায়। তারা মারা যাওয়ার পর মহিমচন্দ্র রায়ের ছেলে চিত্তরঞ্জন রায় জমিদার বাড়ির ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে পারেননি। জমিদার ভবনের দরজা, জানালা ভেঙে গেছে, ভবনের বিভিন্ন স্থানে আগাছা হয়ে সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যারা উত্তরসূরী হিসেবে বেঁচে আছেন তাদের অনেকেই এখানে থাকেন না।