যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে আতংকজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২২ মার্চ প্রথম দফায় এখানকার ১৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৮ নং হরিহরনগর ইউনিয়নের নির্বাচন হাইকোর্ট স্থগিত করেছে।
সোমবার উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতারা নির্বাচন প্রচারণার নানা বাধাবিপত্তির অভিযোগ তুলে ধরেন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মনিরামপুর থানা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ মো. ইকবাল হোসেন। জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। দলের মনোনীত কয়েকজন চেয়ারম্যান প্রার্থীও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন।
বিএনপি নেতারা সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর থেকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা বিএনপি প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকদের নানাভাবে হুমকি দিয়ে চলেছে। কিছু কিছু স্থানে পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, পোস্টার লাগাতে না দেয়া ও মারপিটের ঘটনাও ঘটেছে। শ্যামকুড় ইউনিয়নে মারপিট, ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ বিএনপি নেতাদের মামলা গ্রহণ না করে উল্টো বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী মশিউর রহমানসহ ২৬ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এমনকি এই ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাওয়া যাবে না বলে বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে। প্রায় সকল ইউনিয়নের প্রার্থী ও নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ভোট চাওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য চাপ সৃষ্টিসহ ভোটের মাঠে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে। শ্যামকুড়, খানপুর, মনিরামপুর, ঝাঁপা ও ঢাকুরিয়া দুর্বাডাঙ্গাসহ কয়েকটি ইউনিয়নে ভোট কেটে নেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এতে নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে হবার ব্যাপারে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। বিগত পৌরসভা নির্বাচনের মতো ভোট ডাকাতির সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।’
জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু অভিযোগ করেন, ভোট ডাকাতির জন্য আশপাশের এলাকার সন্ত্রাসীদের এলাকায় জড়ো করা হচ্ছে।
অভিযোগের ব্যাপারে শ্যামকুড়সহ তিনটি ইউনিয়নের রিটার্নিং অফিসার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, ‘প্রচারে বাধা দেয়ার বিচ্ছিন্ন দু-একটি অভিযোগ পেয়েছি। ব্যবস্থা নিতে থানাকে জানিয়েছি।’
বিএনপির অভিযোগের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘এ সবই মিথ্যা। মিথ্যাচার করা তাদের অভ্যাস।’
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাহেরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি।’
