ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে যেসব এলাকায় বিনাভোটে চেয়ারম্যান হয়েছে, সেখানে কোন অনিয়ম হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতিমধ্যে প্রথমধাপে ৬২জন বিনা ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপে আরো ১৩জন চেয়ারম্যান হওয়ার পথে রয়েছে। বিনাভোটে চেয়ারম্যান হওয়া ইউপিতে কোন অনিয়ন বা অভিযোগ থাকলে তা নথিভুক্ত করে কমিশনে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত ইউপিতে যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে, বা কোন অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। ওইসব ইউপিতে কোন সুর্নিদিষ্ট অভিযোগ এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কমিশন যে কোন ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
ইসির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ২২মার্চ অনুষ্ঠেয় প্রথমধাপের ৭৩৪টি ইউপিতে ভোটের আগেই ৬২জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার ঘটনায় অনেকটা বিব্রত কমিশন।
সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কক্ষে অন্য কমিশনারদের নিয়ে আলোচনায় বিষয়টি প্রধাণ্য পেয়েছে। ওই আলোচনায় কমিশনাররা বিনাভোটে নির্বাচিত ইউপিতে কোন ধরণের অনিয়ম হলে, সেখানে পুনঃতফসিলের সিদ্ধান্ত নেন। তার আগে বিনাভোট চেয়ারম্যান নির্বাচিত ইউপির দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসারদের লিখিতভাবে অভিযোগ পাঠানোর জন্য একমত হয় কমিশন। এছাড়াও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাছাই করে দেখবে কমিশন। বিশেষ করে বাগেরহাট জেলায় ৩৪জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে কোন পক্ষ থেকে অভিযোগ না আসায় হতাশা প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশনাররা। যদিও বিনাভোটে চেয়ারম্যান হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখার কমিশনের সিদ্ধান্ত ইসি সচিবালয়কে জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘এ ধরণের কোন নির্দেশনা কমিশন থেকে আমাদের এখনো জানানো হয়নি। কমিশন সিদ্ধান্ত জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাতিল দুই ইউপিতে আবার ভোট
আদালতের নির্দেশে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউপি নির্বাচনের তফসিল বাতিল করেছিল ইসি। কিন্তু হাইকোর্টের আদেশ আপিল বিভাগে স্থগিতাদেশ দেয়ায় সোমবার ওই দু’টি ইউপিতে পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ফলে আগামী ২২ মার্চ প্রথমধাপে ৭৩৪টি ইউপিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
ইসির দরজা সবার জন্য খোলা
নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেছেন, যাঁরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন, তাঁদের জন্য সমস্ত দ্বার খুলে দেয়া হবে। সোমবার শেরেবাংলা নগরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক তিনি এ কথা বলেন।
শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘এ নির্বাচনে অনেক রাজনৈতিক দলই অংশগ্রহণ করছে। এ নির্বাচনে যাঁরা অংশগ্রহণ করছেন আমরা তাঁদের জন্য সকল দ্বার খুলে দেব।’
তিনি বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তার পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েও মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। কাজেই প্রার্থীরা যেন বাধার সম্মুখীন না হন, সেজন্য অনলাইনেও মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার কথা ভাবছি। যাতে সবাই মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন, সেজন্য সব ব্যবস্থাই করেছি।’ এরপরও কারো কোনো অভিযোগ থাকলে তা সুনির্দিষ্ট আকারে আসতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘প্রত্যেক নির্বাচনেই আমরা শক্ত অবস্থানে থাকি। মাঠে যাঁরা নির্বাচন কর্মকর্তা রয়েছেন, তাঁদেরও শক্ত অবস্থানে থাকতে বলা হয়। আইন ভঙ্গকারী যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।’
