ইথিওপিয়া হতে যাচ্ছে মধ্যম আয়ের দেশ

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৯, ২১:০৯

g শফিকুর রহমান রয়েল

 

ইথিওপিয়া উত্তর আফ্রিকার একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এর সরকারি নাম ইথিওপীয় সরকারি গুপ্রজাতন্ত্রও। উঁচু পর্বত আর ঊষর মরুভূমির এই রুক্ষ দেশটিতে ৭০টিরও বেশি জাতিগত ও ভাষাগত গোষ্ঠীর মানুষের বাস। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশটি আবিসিনিয়া নামে পরিচিত ছিল। ইথিওপিয়া আফ্রিকার প্রাচীনতম স্বাধীন রাষ্ট্র। মাথাপিছু আয় সেখানে ২ হাজার ডলারের কাছাকাছি। গত এক দশকে তাদের মাথাপিছু প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশেরও ওপরে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিবেচনায় বর্তমান বিশ্বের সেরা দশটির একটি হচ্ছে ইথিওপিয়া। হুয়াজিয়ানের ইথিওপীয় কারখানায় নিযুক্ত রয়েছে ইথিওপিয়ার ৩ হাজার শ্রমিক। এখানে উত্পাদিত হয় গেস, ন্যাচারালাইজার টম-এর মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের জুতা। বার্ষিক রপ্তানি মূল্য ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। এইচএন্ডএম-এর মতো ব্র্যান্ডও এখন ইথিওপিয়া থেকে জুতা আমদানি করছে। ২০১৩ সালে ইথিওপিয়ার মোট রপ্তানি আয়ের ৩ শতাংশ এসেছিল টেক্সটাইল ও চামড়ার সামগ্রী থেকে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর এই দুই সামগ্রী থেকে রপ্তানি আয় গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এশিয়ায় উত্পাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় হুয়াজিনের মতো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বিকল্প খুঁজতে খুঁজতে ইথিওপিয়ায় ঠিকানা করে নিয়েছে। দেশটিতে শুল্কের ঝামেলা নেই; রয়েছে সস্তা শ্রম এবং স্থিতিশীল রাজনৈতিক আবহ। অতএব, কে না চায় এই সুযোগগুলো গ্রহণ করতে।

শুরুতে ইথিওপিয়ার একজন শ্রমিকের মাসিক বেতনের পরিসর ৩৫ থেকে ৪০ মার্কিন ডলার, চীনে যেটি ৬২৯ মার্কিন ডলার। ২০০০ থেকে ২০১৮ এই সময়ে চীনে শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে তিন গুণ। সে জায়গায় সরকারি কর্মচারীদের বাদে ন্যূনতম মজুরির কোনো বিধানই নেই। এ ব্যাপারে ইথিওপিয়ার বিনিয়োগ এজেন্সির রপ্তানি উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক আকিলু ওল্ডারমারিয়াম মন্তব্য করেছেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের শ্রম আইন আছে আমাদের দেশে; কিন্তু সরকার ন্যূনতম মজুরির ব্যাপারে হস্তক্ষেপে উত্সাহী নয়।’ ন্যূনতম মজুরির অনুপস্থিতির মানে মার্কেট ডাইনামিকস কারখানার শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করে। ইথিওপিয়ায় শহুরে বেকারত্বের হার ১৮ শতাংশ। অনেকেই যে কোনো মজুরিতে কাজে লেগে পড়ে। এ ছাড়া তাদের সামনে আয়ের যে কোনো পথ নেই।

২০০০ থেকে ২০১৮, এ সময়ে ইথিওপিয়ার গড় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১০.৪ শতাংশ। ধারণা করা হচ্ছে ২০২৫ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে দেশটি। আদ্দিস আবাবস্থ ইন্টারন্যাশনাল ল এন্ড পলিসি ইনস্টিটিউট অফিস-এর উপদেষ্টা ও রিসার্চ প্রফেসর দেরেজি ফেয়েসি দরি’র অভিমত, ইথিওপিয়ার সরকার ভয় পায় যে, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করলে না আবার বিদেশি বিনিয়োগকারী চলে যায়। কিন্তু সরকার যে জিনিসটি বুঝতে পারছে না, তা হলো— এখানকার চেয়ে সস্তা শ্রম পাওয়া হবে বিরল ঘটনা। ইথিওপিয়াতে জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে ন্যূনতম মজুরি হওয়া উচিত ২ হাজার বির (ইথিওপিয়ার মুদ্রা, ২০ বির সমান ১ মার্কিন ডলার)। অদূর ভবিষ্যতে যা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। মোদ্দাকথা, সরকার এই মুহূর্তে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দর কষাকষি করতে চাচ্ছে না। ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করলে তাদেরও যা মানতে হবে। সে অজুহাতেই তারা সেটি ছেড়ে দিয়েছে বাজারের ওপর। নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাটাই সরকারের মূল লক্ষ্য। —ফরেন পলিসি অনুসরণে