স্পোর্টস রিপোর্টার
মাত্র কয়েকটা মিনিটের ব্যবধান।
সংবাদ সম্মেলনটা দীর্ঘ না হলেই কয়েক মিনিট আগে মসজিদে পৌঁছে যেতেন ক্রিকেটাররা। মৃত্যু এতোটাই কাছ থেকে ঘুরে গেছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের। তিনি বলছিলেন, তারা অশেষ ভাগ্যবান বলে বেঁচে গেছেন এই ভয়াবহ মৃত্যুর হাত থেকে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে পাইলট বলছিলেন, তারা বেশিরভাগ ক্রিকেটারই সেই সময় বাসে ছিলেন। পাইলট বলছিলেন, ‘অ্যাকসিডেন্টটা তো দেখেছেন সবাই, আমরা কেউই আশা করি নাই এমন কিছু হবে। কোনো দেশেই আমরা চাই না এই ধরনের অ্যাকসিডেন্ট হোক। আমরা ভাগ্যবান, বাসে অনেকেই ছিল। বেশ কয়েকজনই ছিল। সৌম্য সরকার বা যারা ছিল তারা হয়তো নামাজ পড়তে যাচ্ছিলো না, দুই একজন হোটেলে ছিল। বাদবাকি সবাই বাসে ছিল।’
একেবারে মসজিদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলো তখন বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের বহন করা বাস। পাইলট বলছিলেন, ওই বাসের মধ্যে বসেই সিনেমার মতো করে এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখেছেন তারা, ‘আমরা খুবই কাছে ছিলাম। মসজিদ আমরা বাস থেকেই দেখতে পাচ্ছিলাম। আমরা হয়তো ৫০ গজ দূরে ছিলাম। আমি বলব আমরা খুবই লাকি, আর যদি তিন-চার মিনিট আগে চলে আসতাম তাহলে আমরা মসজিদেই হয়তো থাকতাম। বিশাল বড় ম্যাসিভ একটা ঘটনা ঘটে গেল। আমরা খুবই লাকি ছিলাম। আমরা ভিডিওর মতন দেখছি। পুরো মুভিতে যেমন দেখায়। বাস থেকেই দেখতে পাচ্ছিলাম আমরা— মানুষ রক্তাক্ত অবস্থা বেরিয়ে আসছে। আমরা প্রায় ৮-১০ মিনিট বাসেই ছিলাম। সবাই মাথা নিচু করে ছিলাম যদি কোনো কারণে ফায়ার হতে থাকে। পরে দেখলাম যারা অ্যাটাক করছে তারা যদি বেরিয়ে এসে এলোপাতাড়ি গুলি করে।’
এই হামলার পর ক্রিকেটাররা কিভাবে ভেঙে পড়েছেন, তাদের কী রকম মানসিক কষ্টের ভেতর দিয়ে যেতে হচ্ছে, এটাও কাছ থেকে দেখছেন পাইলট।
সাবেক এই জাতীয় দল অধিনায়ক বলছিলেন, ক্রিকেটাররা খুবই মুষড়ে পড়েছেন, ‘এটা খুবই স্বাভাবিক। আপনার সামনে যখন এমন সন্ত্রাসী আক্রমণ হয়েছে এবং আপনি সেটা সরাসরি দেখেছেন। রক্তাক্ত অবস্থায় মানুষ বেরিয়ে আসছে। খুবই স্বাভাবিক যে কোনো মানুষই ভেঙে পড়ার কথা। ওই মুহূর্তে নিজের গায়ের ওপর যে আসবে না এটা কেউ জানতো না। আমি প্লেয়ারদেরকে দেখেছি বাসের মধ্যে, অনেকেই কান্নাকাটি করছিল, কি করতে পারে, কিভাবে কি করলে এখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। এটা খুবই কঠিন। সবার ওপরেই মানসিক প্রভাব ফেলে। আমি ম্যানেজার হিসেবে প্লেয়ারদেরকে এখানে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলাম।’
