স্পোর্টস রিপোর্টার
আর তিন-চার মিনিট এদিক-সেদিক হলেই হয়ত বাংলাদেশ ক্রিকেট তো বটেই, বিশ্বের ক্রীড়াঙ্গনেই বড় একটা শোকের ছায়া নেমে আসত। সেটা না হলেও এই মুহূর্তে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তামিম ইকবাল লিখেছেন, ‘শুটারের হাত থেকে পুরো দল রেহাই পেয়েছে। তবে, পুরোটাই ভীষণ ভীতিকর একটা অভিজ্ঞতা ছিল। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’
মুশফিকুর রহিম লিখেছেন, ‘ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে গোলাগুলির হাত থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন। আমরা খুবই ভাগ্যবান। সর্বশক্তিমানের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা খুব অল্পের জন্য বেঁচে গেছি। এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আর যেতে চাই না। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’
আঙুলের ইনজুরির কারণে টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ছিলেন দলের বাইরে। তবে, সাত সমুদ্র তের নদীর ওপারের ঘটনাও বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডারকে ছুঁয়ে গেছে। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডই দুঃখজনক। ব্যাপারটা আরও শোচনীয় হয় যখন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো হয় কিছু নিষ্পাপ প্রার্থনারত মানুষের উপর। দুর্ঘটনায় নিহত সকল বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। কাপুরুষোচিত এ ঘটনায় স্বজন হারানো শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাচ্ছি সমবেদনা। মহান আল্লাহকে ধন্যবাদ আমাদের দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে হামলা থেকে নিরাপদে রাখার জন্যে। যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদে যেন তারা দেশে ফেরে সেই কামনাই থাকল।’
তবে, তামিম-মুশফিকরা পাশে পাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বকে। টুইটারে এ ন্যক্কারজনক ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের মানসিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন অনেকেই। ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি লিখেছেন, ‘বিস্ময়কর এবং মর্মান্তিক। ক্রাইস্টচার্চে যে ঘৃণ্য ও কাপুরুষোচিত ঘটনা ঘটেছে সেটা আমার হূদয় ভেঙে দিয়েছে। বাংলাদেশ দলের জন্যও আমার শুভ কামনা রইল। সবাই সাবধানে থাকবেন।’
অন্যদিকে এক টুইটে সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি লিখেছেন, ‘ভয়ঙ্কর ট্র্যাজেডি। নিউজিল্যান্ডকে আমি সবচেয়ে নিরাপদ, সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ জায়গা হিসেবেই পেয়ে এসেছি। ওখানকার মানুষও খুব বন্ধুত্বপরায়ণ। তামিমের সঙ্গে কথা বলে শান্তি পেলাম। জানলাম খেলোয়াড় ও স্টাফরা সবাই নিরাপদেই আছেন। এ সময় সবাইকে এক সঙ্গে থাকতে হবে। ঘৃণা ছড়াবেন না। সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম নেই। যারা স্বজন হারিয়েছেন তাদের পরিবারের জন্য দোয়া করছি।’
