জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক কর্মশালায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণের প্রতি গুরুত্বারোপ করে বক্তারা বলেছেন, সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে হবে। আর এটি বাস্তবায়ন করার জন্য শিগগিরই উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। গতকাল রবিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মুখ্য সচিব ও জাতীয় সিডিএম বোর্ডের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক রইছউল আলম মণ্ডল, সিডিএম বোর্ডের সদস্য সচিব মির্জা শওকত আলী প্রমুখ।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, পৃথিবীকে পৃথিবীর মতো থাকতে দেন। অযথা স্বর্গ বানানোর চেষ্টা করার দরকার নেই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নিন। রাজধানী থেকে কৃষি অনেক দূরে সরে গেছে। এখন আর গাজীপুরকেও কৃষি এলাকা বলা যাচ্ছে না। তাই দক্ষিণাঞ্চলে কৃষি প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন তারা। তিনি বলেন, দেশের গ্রামে অনেক জৈব সার উত্পাদন হয়। তাই রাজধানীর বর্জ্য দিয়ে জৈব সারের অবাস্তব চিন্তা না করে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করুন। রাজধানীর বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুড়িয়ে ছাই তৈরি করে দিলেও তা কৃষি জমিতে ব্যবহার করা যাবে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, সলিড আলাদা করে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা দুই মেয়রের পক্ষেই সম্ভব। এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের জমির বিষয়ে ঢাকা উত্তরের মেয়র মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, যত দিন ক্ষমতায় থাকব জনগণের সম্পদের হেফাজত করে যাব। কৃষি মন্ত্রণালয়ের জমি নিয়ে সিটি করপোরেশন টাকা দিলে সেই টাকায় দক্ষিণে জমি কিনে কৃষি প্লট করা হবে। কিন্তু কোনো কাজে গিনিপিগ হতে যাব না।
কর্মশালায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমাদের সবকিছু রাস্তায় ফেলার একটি পুরনো অভ্যাস আছে। এভাবে চলতে পারে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ইতোমধ্যে সরকার পৌরসভাগুলোতেও বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। মানুষকে আরো সচেতন করে সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে হবে।
আনিসুল হক বলেন, উত্তর সিটির মেয়র হিসাবে প্রথম স্বরূপ তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন রাস্তা থেকে ময়লা দূর করা। রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে একদিনও আর অপেক্ষা করার সময় নেই। সমস্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। ইতোমধ্যে আমিনবাজার ডাম্পিং স্টেশনের অবস্থাও বেহাল হয়েছে। বর্জ্য থেকে সার উত্পাদন না করে জ্বালিয়ে বিদ্যুত্ উত্পাদনের পন্থা খুঁজে বের করতে বিশেষজ্ঞদের আহ্বান জানান তিনি। দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, তিনি প্রায় ২২ বছর ধরে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা শুনে এখন ক্লান্ত। তাই আর কোনো নতুন চিন্তার কথা না শুনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখনই কিছু এটা শুরু করার আহ্বান জানান তিনি। স্থানীয় সরকার ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রকল্প শুরু করতে মুখ্য সচিবের প্রতি আহ্বান জানান সাঈদ খোকন।
সভাপতির বক্তব্যে মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, কোনো অনুদান নয়, সরকারের অর্থেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হবে। এর জন্য শিগগিরই পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি ও ঢাকার দুই মেয়রকে নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা তাদের জনবল ও সরঞ্জাম সংকটের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, প্রতিদিনই রাজধানীতে মানুষ ও বর্জ্য বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ ধারা চলতে থাকলে ২০২৫ সালে প্রতিদিন ৪৭ হাজার টন বর্জ্য উত্পাদন হবে, যা ব্যবস্থাপনা দুরূহ হবে। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা না হলে এর জন্য প্রায় ৩১২ হেক্টর কৃষি জমি নষ্ট হবে।
কর্মশালায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত তুলে ধরেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, বুয়েটের কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা, দক্ষিণ সিটির কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন রাকিব উদ্দিন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট কনসার্নের নির্বাহী পরিচালক এ এইচ এম মাকসুদ সিনহা, পরিচালক ইফতেখার এনায়েতুল্লাহ।
