সৌভাগ্যক্রমে এ যাত্রা বেঁচে গেছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল-নুর মসজিদে সন্ত্রাসীর গুলিতে প্রায় অর্ধশত মুসল্লি নিহত হয়েছেন। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে রক্ষা পেয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তারা মসজিদে পৌঁছানোর আগেই এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনাস্থলের খুব কাছেই ছিলেন তারা। এক মহিলার কারণে আর মসজিদের দিকে এগোয়নি টিম বাস। মসজিদ থেকে রক্তাক্ত মানুষ বের হয়ে আসা, মাটিতে লুটিয়ে পড়ার দৃশ্য দেখেছেন ক্রিকেটাররা। যার আতঙ্ক, ভয় কাটছেই না কারো মন থেকে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরে একান্ত আলাপে কথা বলেছেন মুমিনুল হক। টিম বাসের সামনের দিকে মুশফিকুর রহিমসহ বসে ছিলেন তিনি। দেখেছেন পুরো ঘটনা। যার বর্ণনাই শুনিয়েছেন মুমিনুল।
গতকাল বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান বলেছেন, ‘আমরা লাঞ্চ করে বের হয়েছিলাম। ২টায় অনুশীলন ছিল। দেড়টায় যাওয়ার কথা ছিল। একটু দেরি হয়েছে রিয়াদ ভাইয়ের প্রেস কনফারেন্স ছিল। তাই ১০ মিনিট পরে বের হইছি। আর আমি, মুশফিক ভাই, তাইজুল মাঝে মাঝে ড্রেসিংরুমে ফুটবল খেলি নিজেদের মধ্যে। যার কারণে আরও ১-২ মিনিট দেরি হয়েছে।’
মসজিদের কাছে যেতেই পিলে চমকানোর অবস্থা সবার। ভয়াবহ এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন ক্রিকেটাররা। মুমিনুল বলেছেন, ‘মসজিদের কাছে গিয়ে দেখি সবাই পড়ে আছে। বাস থেকেই দেখি যে সবাই মসজিদ থেকে বের হচ্ছে আর শুয়ে পড়ছে। রক্তাক্ত মানুষ। এক মহিলা আমাদের ইশারা করছে, ওদিকে যেও না। আরও একটু সামনে আরেকজন মহিলা ছিল। উনি গাড়ি থেকে বলছে, সামনে যেও না। ওখানে গোলাগুলি হচ্ছে।’
তখন সেখানে বাসে প্রায় মিনিট দশেক সময় মাথা নিচু করে বসেছিলেন ক্রিকেটাররা। পরে পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে হেঁটে হ্যাগলি ওভালে ফিরে যান আতংকিত ক্রিকেটাররা। মুমিনুল বলেন, ‘তারপর আমরা ওখানে বাসে বসে ছিলাম ৫-১০ মিনিট। তারপর আমরা বাসের পেছনের দরজা খুলে পার্কের ভেতর দিয়ে হেঁটে চলে আসি।’
কিছুক্ষণ আগে মসজিদে গেলেই সর্বনাশ হয়ে যেত। ধরে আসা কণ্ঠে মুমিনুল বলেন, ‘৫ মিনিট আগে গেলে আমরা মসজিদেই থাকতাম। এবং সবাই শেষ হয়ে যেতাম! আল্লাহর অশেষ রহমত, দেরি করে গেছি। মসজিদে গেলে তো, আমরা হয়তো পেছনের দিকে বসতাম। ও (সন্ত্রাসী) তো কাউরে রাখে নাই। টানা গুলি করছে। এত ভয় পাইছি সবাই, আমরা ঠিক কেঁদে দিছি।’
ঠিক ওই সময় ড্রাইভারকে বলেও বাস পেছনে নেওয়া যায়নি। নিয়ম নেই বলে বাস পেছনে নেয়নি টিম বাসের ড্রাইভার। ক্রাইস্টচার্চের এই মসজিদে আগেও নামাজ পড়েছে বাংলাদেশ দল।
মুমিনুল বলেন, ‘আগেরবারও ক্রাইস্টচার্চে আমরা এই মসজিদে নামাজ পড়ছি সবাই। আল্লাহ নিজ হাতে আমাদেরকে বাঁচিয়ে দিছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রিয়াদ ভাই বলতে ছিল, কাল (শুক্রবার) তো জুম্মার নামাজ। লাঞ্চ কি নামাজ পড়ে এসে করবি, নাকি লাঞ্চ করে মসজিদ যাবি। আমরা বলছিলাম, অনুশীলন যেহেতু পরে তাহলে নামাজ পড়ে এসেই লাঞ্চ করবো। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা আজ (গতকাল) লাঞ্চ করেই মসজিদে গেছি। তাই বেঁচে গেছি।’
লাঞ্চ করে যাওয়া এবং সংবাদ সম্মেলনের বিলম্বের কারণেই সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়নি বাংলাদেশ দল। তবে মুমিনুল কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, সেই মহিলার প্রতি। যিনি আর সামনে যেতে নিষেধ করেছিলেন টিম বাসকে। গোটা দলটা ওই মহিলার কারণেই নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড থেকে বেঁচে গেছে।
