রাজশাহীতে গণধর্ষণের শিকার কিশোরীর অবস্থা আশঙ্কজনক

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৬, ২০:২৪
রাজশাহী মহানগরীর সোনাদিঘীর মোড়ের ভাই ভাই হোটেলে রাতভর গণধর্ষণের শিকার কিশোরীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
 
বৃহস্পতিবার দুপুরে তার অস্ত্রপাচার হলেও বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ওই কিশোরীর জ্ঞান ফিরেনি। এদিকে ওই কিশোরীর কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে কথিত প্রেমিক খোকনকে পুলিশ সন্ধ্যা পর্যন্ত আটক করতে পারেনি। রামেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, ধর্ষিত কিশোরী এখনো আশঙ্কজনক। 
 
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ কাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) এসআই নাজমা খাতুন জানান, ওই কিশোরীর অস্ত্রপাচার সম্পন্ন হয়েছে। তবে তার জ্ঞান এখনো ফিরেনি। কিশোরী এখন হাসপাতালের ২৩ নং ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধায়নে রয়েছে।
নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি জানান, ধর্ষিত  কিশোরীর কথিত প্রেমিক খোকনকে আটকে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযুক্ত খোকন রাজশাহীর তানোর উপজেলার চন্দ্রকোটা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি বলে জানা গেছে।
 
এ ব্যাপারে নগরীর বোয়ালিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবারত বলেন, ধর্ষিত কিশোরীর পরিবারের লোকজনকে খবর দেয়া হয়েছে। তারা আসলে এ ঘটনা থানায় মামলা দায়ের হবে।
 
জানা যায়,  ধর্ষিত ওই কিশোরীর আনুমানিক বয়স ১৪ বছর। তার বাড়ি নাচোলের আমনুরা এলাকায়। তানোরে আবুল হোসেনের ছেলে খোকনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে প্রেমিক খোকন বুধবার বিকেলে তাকে রাজশাহীতে ডেকে নিয়ে আসে। ওই কিশোরী মেডিক্যাল পুলিশকে জানায়, রাজশাহীতে আনার পরে খোকন তাকে নিয়ে ভাই ভাই হোটেলে উঠে। এরপর তাকে রাতভর ধর্ষণ করা হয়। এর সঙ্গে হোটেলের কর্মচারীরাও জড়িত রয়েছে।
 
রামেক ও পুলিশ সূত্র জানায়, হোটেলের কর্মচারীদের সহযোগিতায় মেয়েটিকে রাতভর গণধর্ষণ করা হয়। এতে সে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। পরে সকালে খোকন তার বন্ধু রনিকে ডেকে নিয়ে তার অটোরিকশায় করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। এরপর ওই কিশোরীকে রামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ কাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই অটোরিকশার চালক রনিকে আটক করেছে। সে গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ি এলাকার মৃত দলিল মণ্ডলের ছেলে।