জিয়ানগর উপজেলায় ২৮ নম্বর বালিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ বন্ধ হওয়ার পরেও ফল ঘোষণা করা হয়েছে। ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে উঠিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি বাগানে নিয়ে সন্ত্রাসীরা মারধর করে। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) র্যাব এবং বিজিবি নিয়ে প্রিজাইডিং অফিসারকে উদ্ধার করে উপজেলা সদরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে চিকিত্সার জন্য খুলনা পাঠানো হয়। ওই কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা ব্যালট পেপার দখলে নিয়ে ইচ্ছেমত সিল মারে। প্রশাসন কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখলেও গভীর রাতে ভোট গণনা দেখিয়ে ফল প্রকাশ করে দেয়া হয়। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায় ওই কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পেয়েছেন ২০০১ ভোট। আর ওই ইউনিয়নের টানা তিনবার নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টি জেপি’র মনোনীত প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ৩৭ ভোট। আর সবগুলো কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে নৌকা মার্কার প্রার্থী পেয়েছেন ৭৩৪০ ভোট এবং জেপির সাইকেল মার্কার প্রার্থী মশিউর রহমান মঞ্জু পেয়েছেন ৬০৩৮ ভোট। নয়টি ভোট কেন্দ্রের ছয়টিতে মশিউর রহমান এগিয়ে থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী কবির হোসেন বয়াতী তিনটি কেন্দ্রে অস্বাভাবিক হারে ভোট পেয়েছেন এবং বেসরকারিভাবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ছিলেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রুহুল আমিন। তার উপর সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে গতকাল উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সরকারি কর্মকর্তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সভায় জানানো হয়, নির্বাচন নিয়ে মহল বিশেষের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও হুমকির কারণে সরকারি কর্মকর্তারা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ইউএনও মৃধা মোঃ মোজাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপজেলা সভা কক্ষে এ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপজেলা প্রকৌশলী মীর আলী শাকির বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার উপরে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সন্ত্রাসী হামলা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ভাবে যদি সরকারি কর্মকর্তারা আক্রান্ত হন তা হলে আমরা কি করে সরকারের অর্পিত দায়িত্ব পালন করব। আমাদের নিরাপত্তা কে দিবেন?
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, কাজ করতে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তারা যদি এ ভাবে মার খাই তবে ভবিষ্যতে সরকারি দায়িত্ব পালনের বিষয়ে আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে। আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এর পর তিনি ইন্দুরকানী থানার ওসি মিজানুল হককে উত্থাপিত বিষয়ে বক্তব্য দেয়ার অনুরোধ জানালে ওসি কোনো বক্তব্য দেননি।
প্রসঙ্গত যে কেন্দ্রের সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্থানীয় প্রশাসনের সকলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সেই কেন্দ্রেরই ফল প্রকাশে বাধ্য হন তারা।
