প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পূর্বাপর ব্যাপক সহিংসতা হামলা-মামলা ভোট কারচুপির পটভূমিতে বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনে দাঁড়ানোর আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। গত তিনদিন ধরে দলের গুলশান অফিস থেকে প্রার্থীদের প্রত্যায়নপত্র দেয়া হচ্ছে। তবে যোগ্য এবং জনপ্রিয় প্রার্থীরা মনোনয়ন নিতে আসছেন না।
রবিবার মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় হলেও শতাধিক ইউনিয়ন থেকে কোন প্রার্থী যোগাযোগ করেনি কেন্দ্রের সঙ্গে কোন কোন ইউপি থেকে জোর করে প্রার্থী ধরে এনে প্রত্যয়নপত্র দেয়া হচ্ছে। তৃতীয় ধাপের ৬৮৫টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে শুক্রবার রাত পর্যন্ত প্রায় ৫শ টিতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করেছে বিএনপি।
দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানান,প্রথম ধাপের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, নির্বাচন কমিশন ও আইন শৃংখলার দায়িত্বে থাকা প্রশাসনের নেতিবাচক ভূমিকার কারণে পরবর্তী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। নির্বাচনে আগ্রহ না থাকলেও ৩য় ধাপের ইউপি নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রার্থী মনোনয়ন তত্বাবধানে দায়িত্বশীল বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, নির্বাচনের ফলাফল যেখানে পূর্ব নির্ধারিত,সেখানে অংশ নেয়া মানে নেতাকর্মীদের আর্থিক ক্ষতিসহ নানা নির্যাতন সহ্য করা। ফলে অনেক এলাকা থেকে কোন প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। কোন কোন এলাকা থেকে প্রার্থী করানো হচ্ছে জোর করে। জনপ্রিয় প্রার্থীরা ভোট ডাকাতির ভয়ে ভোটে দাঁড়াতে চান না।বিকল্প প্রার্থীও পাওয়া যাচ্ছেনা।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনের যে ইতিহাস, তাতে সামনের ইউনিয়ন পরিষদের যে ভোট ডাকাতি ছাড়া আর কিছুই হবে না- সেটাও নিশ্চিত। এ অবস্থায় যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীদের নির্বাচনে আগ্রহ না দেখানোটাই স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন একটা তামাশা। ভোটের আগে এবং পরে সংঘাত, সংঘর্ষ, সহিংসতায় পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি’র গুলিবর্ষণ এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পৈশাচিক হামলা চালিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ২২ জনকে হত্যা করেছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীও রয়েছেন। মানুষের বাড়ীঘরে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা অগ্নিসংযোগসহ হামলা-লুটপাট, নির্যাতন ও তান্ডব লীলা চালাচ্ছে। নির্বাচনী এলাকাগুলোতে এক ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। এখন বিএনপির প্রার্থী তাদের সমর্থকরা এলাকা ছাড়া। ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবে কিনা সন্দেহ। এই পরিস্থিতি দেখার পর আগামী নির্বাচনগুলোতে বিএনপির প্রার্থীরা অংশ নিতে ভয় পাচ্ছেন।
