মাচা পদ্ধতিতে টমেটো চাষে লাভবান কৃষক

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৬, ০৫:৪৮
কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের বানিয়াগ্রামের চাষি মোস্তফা কামাল (৪৫) চার বছর ধরে মাচা পদ্ধতিতে মেদি জাতের টমেটো চাষ করছেন। ফলন ও লাভ বেশি থাকায় গ্রামের অন্য কৃষকরাও ঝুঁকছেন এ পদ্ধতিতে টমেটো চাষে।
 
এ ব্যাপারে চাষী মোস্তফা কামাল জানান, আগে জমিতে চাষ করে তেমন লাভবান হতে পারতাম না। পরে আমি জানতে পারি মাচা পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করলে সুবিধা যেমন বেশি তেমনি লাভও। অন্যজাতের টমেটো চাষের মতোই জমি চাষ দিয়ে সারিগুলোর মধ্যে ২ ফুট দূরত্ব রেখে চারা রোপণ করা হয়। সারিতে চারাগুলোর মধ্যে দেড় ফুট দূরত্ব রেখে প্রায় আধ ফুট উঁচু বেড তৈরি করা হয়। চারা বড় হওয়ার সাথে সাথে প্রতি চারায় খুঁটি দিতে হবে এবং পরে বাউনির জন্য বড় খুঁটি ও রেশমী সুতা দিয়ে ৩ ফুট উঁচুতে মাচা তৈরি করতে হবে। এই মাচায় গাছ বাড়তে থাকবে ও ফলন হবে। এ পদ্ধতিতে টমেটো ক্ষেতের পরিচর্যা, সার-সেচ ও অন্যান্য সকল কাজ সুবিধা মত করা যায়। মাচা থাকার কারণে গাছ হেলে পড়ে না ও টিকে থাকে দীর্ঘদিন। এই উপায়ে টমেটো চাষে লাভ বেশি।
 
গত ২০১৫ রবি মৌসুমে ১৭ শতক জমিতে এ পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে সব খরচ বাদে ৩৫ হাজার টাকা লাভ হয় মোস্তফা কামালের। চলতি রবি মৌসুমেও তিনি টমেটো চাষ করেছেন এবং এবারও লাভবান হবে বলে আশা করছেন। তিনি বলেন, আমার এ পদ্ধতিতে গ্রামের অন্যান্য চাষীও টমেটো চাষ শুরু করেছেন। চাষের ব্যাপারে বানিয়াগ্রাম ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সঙ্কর কুমার সরকার পরামর্শ প্রদান করেছেন বলে তিনি জানান।
 

এ ব্যাপারে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সঙ্কর কুমার সরকার জানান, আমার ব্লকে মোট ২৫ বিঘা জমিতে বর্তমানে টমেটো চাষ হচ্ছে এবং ৩৫ জন চাষী টমেটো চাষে জড়িত। মাচা পদ্ধতিতে টমেটো চাষে সুবিধা ও লাভ বেশি বলে সবাইকে উত্সাহ দিচ্ছি।