তাহেরা তালুকদার
বয়স যখন পেরিয়ে গেল একুশ কিংবা বিশ,
তখন থেকেই পাড়াপড়শির কানে ফিসফিস।
বুড়ো মেয়ে ঢিঙি মেয়ে বিয়ে হয় না কেন?
এমন মেয়ের বর হবে ছেলে যেনতেন।
বিয়ের চিন্তায় বাবা-মায়ের ঘুম যে গেল উড়ে,
মেয়ের জন্য বর খোঁজে সারাটা দেশ জুড়ে।
অনেক খুঁজে ঘটকবাবু আনলেন এক ছেলে,
ভাগ্য নাকি খুলে যাবে এমন বর পেলে!
ছুটি নিয়ে পাত্রসাহেব আসবে আমায় দেখতে,
সবাই মিলে তাগাদা দেয় রান্নাবান্না শিখতে।
শুক্রবারে পাত্র আসবে বন্ধু দুএকজন,
ভাইবা বোর্ডে গিয়ে দেখি পুরো আত্মীয়স্বজন!
ভাইবা বোর্ডে পরীক্ষার্থী দশে পেলাম ছয়,
গায়ের রঙটা ময়লা বলে পুরোটা মার্কস নয়!
ছেলে দেখতে ভীষণ কালো; লম্বা পাঁচ ফিট ছয়,
দশে আমি দিলাম কত সেটা মুখ্য নয়!
পঞ্জিকা সব ঘেঁটেঘুঁটে বিয়ে হলো সেবার,
আমার বাপে ফতুর হলো খাইয়ে পাঁচ হাজার!
অশ্রু দিয়ে সাগর গড়ে গেলাম শ্বশুরবাড়ি,
সবাই মিলে জটলা পাকায় আমায় মধ্য করি।
পাশের বাড়ির বুড়িকাকি দেখে ধরিয়ে আলো,
অবজ্ঞাতে বলে ওঠে—মেয়ে তো ভীষণ কালো!
বলি ভাবি কি দেখে গো এমন মেয়ে আনলে?
অমুকের মেয়ে তমুকের কথা বলতাম এমন জানলে!
শাশুড়ি সে হেসে বলে, মেয়ে লক্ষ্মী ভারি,
আসবাবপত্র সবই দিল; গয়না ১০ ভরি!
ভিন্নধারার লোকের সাথে কেমনে করব ঘর?
তাল মিলিয়ে কেমনে চলব সারা জীবন ভর!
অজানা সে অচেনা লোক; জানি না যার কিছু,
মনটা আমার না পেলেও সে পেয়ে গেল সবকিছু!
সমাজ তাতে কিবা ভাবে; কিবা আসে যায়,
সারাজীবন বিলিয়ে দিয়েও সাবিত্রী সে নয়!
শিক্ষার্থী,
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
