ব্রাহ্মনবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় ইউপি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় টানা দুইদিনের সংঘর্ষে দুর্গাপুর ও তাজপুর গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আহত হয়েছে উভয় পক্ষের শতাধিক লোক। আহতদের জেলা সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়েছে। এদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশংকাজনক। এ সময় দাঙ্গাবাজরা বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
শুক্রবার সকালে সহস্রাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুর্গাপুর ও তাজপুর গ্রামের অন্তত চারটি স্পটে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় দুই গ্রাম রণক্ষেত্র পরিণত হয়। খবর পেয়ে র্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৫০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে। এলাকায় মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোঃ সেলিম উদ্দিন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে র্যাব ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ঘটনার অবতারণা
মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জিয়াউল করিম খান সাজুর সমর্থক দুগাপুর গ্রামের বড় বাড়ির খলিলুর রহমানের ছেলে জুয়েলকে একই গ্রামের নগরপাড়ার আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মোয়াজ্জেম হেসেন মাজুর সমর্থক মফিজ মিয়ার ছেলে ফরিদ ও স্বপন মারধর করে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে উভয় পক্ষের সহস্রাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। টানা চার ঘণ্টার সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। ব্রাহ্মনবাড়িয়া থেকে দাঙ্গা পুলিশ এসে দুপুর একটায় সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। সেই রেশ ধরে শুক্রবার সকালে আবারো হামলার ঘটনা ঘটে।
