টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণ মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি বাসের চালক হাবিবুর রহমান নয়ন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকালে আদালতে তিনি জবানবন্দি দেন। অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধনবাড়ী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) খান হাসান মোস্তফা জানান, তার জবানবন্দি দেয়ার মধ্য দিয়ে এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত তিন আসামির প্রত্যেকেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন। ম্যাজিস্ট্রেট নয়নকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। গত শুক্রবার ভোরে এক গৃহবধূ গাজীপুরের চন্দ্রায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ধনবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে ‘বিনিময় পরিবহনে’র বাসে ওঠেন। এসময় চালক আর কোনো যাত্রী না উঠিয়েই বাসটি চালাতে শুরু করেন এবং পথিমধ্যে তিনিসহ বাসের সুপারভাইজার রেজাউল করিম জুয়েল ও হেলপার আব্দুল খালেক ভুট্টো ওই যাত্রীকে চলন্ত বাসে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর তাকে মধুপুরে নামিয়ে দেয়া হয়। পরে ধর্ষিতার স্বামী এ ব্যাপারে পরিবহন শ্রমিকদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এ পর্যায়ে ধর্ষিতার স্বামী ৯ জনকে আসামি করে ধনবাড়ী থানায় মামলা করেন। তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ও অপর ছয়জনের বিরুদ্ধে অপরাধ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। মামলার রাতেই গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় ধনবাড়ী থানা পুলিশ ধর্ষণের সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করে শনিবার টাঙ্গাইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে পাঠায়। হেলপার আব্দুল খালেক ওইদিনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং আদালত অপর দুই আসামি হাবিবুর রহমান নয়ন ও রেজাউল করিম জুয়েলের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রেজাউল করিম জুয়েল গত সোমবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অপর আসামিরা গ্রেফতার হয়নি। টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। তিনিও শনিবার আদালতে ঘটনার বিবরণ দিয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন। গাজীপুরের সফিপুরের অধিবাসী ওই গৃহবধূ বৃহস্পতিবার ধনবাড়ীতে তার এক খালার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
