এই বৈশাখে প্রিয়জনের সঙ্গে

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৬, ১৩:০৭
 
এখন জানালায় বসন্তের শেষ স্নিগ্ধ বাতাস বেলা বাড়তেই গরমের অনুভূতি দেয়। রোদের তাপদাহ বাড়ছে দিন দিন। হঠাত্ দমকা হাওয়া। আকাশে মেঘ জমে এক পশলা বৃষ্টি। আবার ঝলমলে রোদ—এমনি করে বসন্ত পেরিয়ে গ্রীষ্ম আসবে আসবে বলে কড়া নাড়ছে দুয়ারে। প্রকৃতি তার আপন ঢঙে বৈশাখী রূপে সেজে উঠছে। সেই ছোঁয়া লেগেছে শহর, গ্রাম আর নগরতলীতে। সবাই নিজ নিজ ভাবনায় প্রস্তুতি নিচ্ছে কীভাবে বরণ করবে পহেলা বৈশাখকে। কৃষিকাজের সুবিধার্থে বাংলা সন প্রবর্তনের হাত ধরে পহেলা বৈশাখের যাত্রা শুরু। সময়ের পরিবর্তনে তা কৃষি কাজকে ছাপিয়ে বাঙালির প্রাণের উত্সবে পরিণত হয়েছে। নানা আয়োজনে সার্বজনীনভাবে বাঙালি জাতি উদযাপন করে পহেলা বৈশাখ। পুরোনো বছরের সব গ্লানি আর ক্লান্তি ভুলে আপনি পরিবারের সঙ্গে পহেলা বৈশাখের আনন্দ ভাগাভাগি করে উদযাপন করতে পারেন। সপরিবারের নানা আয়োজনে কাটাতে পারেন দিনটি। এজন্য খুব বেশি প্রস্তুতি নিতে হবে না। আপনার ইচ্ছাই উত্সাহ জোগাবে দলবদ্ধভাবে উত্সব পালনে। যা যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলিয়ে পারিবারিক সম্পর্ককে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে। এখন ভাবছেন তো আপনি কীভাবে কাটাবেন বছরের শুরুটা। বৈশাখ আসতে আর সপ্তাহখানেক বাকি। এর মধ্যে সবার জন্য বৈশাখী পোশাক কেনাকাটা করে নিন। কাজের ফাঁকে শপিংমল, বুটিক হাউস কিংবা পছন্দের দোকান থেকে সাধ্য অনুযায়ী সাদা-লালসহ হালআমলের নকশা করা পোশাক বেছে নিতে পারেন। বৈশাখ উদযাপনে নতুন রঙিন জামাকাপড় তৈরি করে নতুন অনুভূতি। বৈশাখ মানে পান্তা-ইলিশের সঙ্গে কাঁচা মরিচ। আগেই পান্তা ভাত আর ইলিশের ব্যবস্থা করুন। বাংলা বছরের প্রথম সকালে বৈশাখী পোশাকে বসে পড়ুন খাবার টেবিলে। পরিবারের সকলে মিলে পান্তার সঙ্গে ইলিশ ভাজা খাচ্ছেন। ভাবতেই ভালো লাগছে, তাই না। খাবার তালিকায় ইলিশের সঙ্গে পরিবারের পছন্দসই ভর্তা পরিবেশন করতে পারেন। কেউ কেউ আবার বাইরে গিয়ে কেনা পান্তা-ইলিশ খেতে পছন্দ করে। তবে পরিবারের জন্য ঘরে বানানো খাবারই বেশি ভালো। বাইরের আবহ পেতে চাইলে শহরের কোনো পার্ক, দর্শনীয় স্থান কিংবা সবুজ মাঠে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার আয়োজন করতে পারেন। এক্ষেত্রে জায়গাটির চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে আপনাকে আগেই ভেবে নিতে হবে। আপনি কি কখনো চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা কিংবা ছায়ানটে বৈশাখ উদযাপন করেছেন? যদি না করেন, তবে এবারের বৈশাখে সপরিবারে অংশ নিতে পারেন। শহরেও আবহমান বাঙালি ঐতিহ্যের ছোঁয়া পেয়ে যাবেন হাজারো অচেনা লোকের ভিড়ে। মেয়েরা সাজে বৈশাখী গড়ন আনতে মাথায় হাতে কাঁচা ফুলের গহনা পরতে পারেন। আর ছেলে সদস্যরা গালে আঁকিয়ে নিতে পারেন নকশা। গ্রীষ্মে তাপদাহ একটু বেশিই। তাই পরিবারের সদস্যদের কথা ভেবে পানি আর হাত পাখার ব্যবস্থা রাখুন। সকালে যারা বাইরে বেরোতে চান না কিংবা ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান রয়েছে যাদের, তারা বিকালটা রেখে দিতে পারেন পরিবারের জন্য। সূর্য পশ্চিমের আকাশে হেলে পড়তে শুরু করবে। রোদের তাপ কমে আসবে। এমন পড়ন্ত বিকালে সপরিবারে বেরিয়ে পড়ুন। বৈশাখী রঙিন বস্ত্র পরতে ভুলবেন না যেন। শহরের রাস্তায় হেঁটে বেড়াতে পারেন। চাইলে সংসদ ভবন ও শাহবাগ এলাকা ঘুরে কাটাতে পারেন বৈশাখী বিকেল বেলা। মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন, চিড়িয়াখানাসহ শহরের দর্শনীয় স্থানে যেতে পারেন। এতে পরিবারের ছোট সদস্যের জন্য বৈশাখটি আরও আনন্দময় হয়ে ওঠবে। পহেলা বৈশাখে শহরের নানা লোকের সমাগম হয়। শহরের প্রত্যেকটা দর্শনীয় স্থানে থাকে মানুষের পদচারণা। ব্যস্ত শহরটা পর্যটক নগরীতে পরিণত হয়। এক ভিন্ন রূপ ধারণ করে প্রিয় শহর ঢাকা। সপরিবারে আপনিও রাঙিয়ে নিতে পারেন বছরের শুরুর দিনটা। এ দিনে নানা খাবারের পসরা বসে রাস্তার ছোট ছোট দোকানে। সেখানে বিকালের হালকা নাস্তা সেরে নিতে পারেন। এটা একসঙ্গে বেড়ানোর আমেজ আরও বাড়িয়ে দিবে। যারা বাইরের খোলা খাবার পছন্দ করেন না তারা হাতের কাছে ছোট কোনো রেস্তোরাঁয় যেতে পারেন। কোথাও বসে গল্প, আড্ডা আর খেলতে পারেন হালকা আমেজের খেলা। অবশ্যই তা সবাই মিলে। যাদের সুযোগ রয়েছে, তারা শহরের অদূরে কোনো গ্রাম্য বৈশাখী মেলায় চলে যান। নাগরদোলা, সার্কাস, পুতুল নাচসহ নানা ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের পসরা বসে এসব গ্রাম্য মেলায়। যা আপনাকে নিয়ে যাবে শৈশবের স্মৃতিতে। আর আপনার সন্তান পরিচিত হয়ে ওঠবে বাঙালি ঐতিহ্যের সঙ্গে। সেখানে পেয়ে যাবেন হাতে তৈরি নানা কুটির শিল্পের জিনিসপত্র। কম খরচে সেখান থেকে নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিতে পারেন। মেলায় নানা মুখরোচক মিষ্টি খাবার বিক্রি হয়। সেসব খাবারের স্বাদ থেকে পরিবারের সকলকে বঞ্চিত করবেন না। কেননা খাবারেও বৈশাখী ছোঁয়া রয়েছে। আর নাগরদোলায় চড়তে ভুলে যাবেন না যেন। চাইলে সার্কাস বা পুতুল নাচ দেখতে পারেন। সাধারণত গ্রামের বৈশাখী মেলা বসে নদীর তীরে। সেখানে নৌকা বাঁধা থাকে। শহরের নদী পাবেন কোথায়। গ্রামের ছোট নদীগুলো ঘুরে বেড়ানোর জন্য মনোরম জায়গা। ফুরফুরে বাতাসের সঙ্গে মাঝির ভাটিয়ালি গানও শুনে আসতে পারেন। সারাদিন পরিবারের সকলে মিলে বৈশাখ উদযাপন করবেন আর ছবি তুলবেন না—এমনটি হয় নাকি। গ্রামের মেলাকে পিছনে রেখে তুলতে পারেন সেলফি। প্রযুক্তির এই যুগে আপনাদের ছবি কি সেলফোনেই বন্দী থাকবে? না। নিজেদের আনন্দময় মুহূর্তগুলো সবার সঙ্গে শেয়ার করুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। 
 
মডেল পায়েল ও কবির
পোশাক কে ক্র্যাফট
ছবি সোহেল মামুন