রঙিলা পোশাক

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৬, ১৩:৩৪
 
য়েকদিন পরেই বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ। বাঙালির প্রাচুর্যের প্রতীক বৈশাখকে বরণ করতে চারদিকে চলছে মহাপ্রস্তুতি। বৈশাখের উৎসব হয়ে উঠেছে বাঙালির ঐক্যের উৎসব। পয়লা বৈশাখে যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তার বড় অনুষঙ্গ নতুন পোশাক। কেমন ভাবে সাজাব নিজেকে—বৈশাখের প্রথম দিনটিতে সবার এ নিয়ে আগাম প্রস্তুতি থাকে। বৈশাখের রঙিলা পাৈশাক নিয়ে এবারের মূল ফিচার। 
 
ইস্টার্ন ফ্যাশনে এবার থাকছে সিম্পল প্যাটার্ন ও স্লিমফিট ফিটিংস। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিপ ডায়িংয়ে থাকছে লাল-সাদার শেড। ট্রাইবাল ভিনটেজ ফেব্রিক বৈচিত্র্য ফ্যাশনে দিবে ভিন্নতা দিনে বা উৎসবের সঙ্গে তালমিলিয়ে বদলে গেছে পোশাকের ঢং বা রং। আর্বিভাব ঘটেছে নিত্য-নতুন ফ্যাশনের। টেলারিং জামা-কাপড়ের পরিবর্তে বাজারে এসেছে হরেক রকমের রেডিমেড ব্র্যান্ড। নতুনের আগমনে অস্তিত্ব বাঁচাতে বেসিক ইনস্টিংক্ট বজায় রেখে পালটে গেছে ফ্যাশনের স্টাইল। যার জেরেই বৈশাখে তাঁতের শাড়ি বা কামিজে ট্র্যাডিশন বদলে জায়গা করে নিয়েছে হাফ সিল্ক, বা লিলেন কটন, ভয়েল বা জয় সিল্ক। ধুতি, পাঞ্জাবি তার চিরপরিচিত আটপৌরে খোলস থেকে ‘সুইচওভার’ করেছে কুর্তা-কুর্তি, পাটিয়ালাতে।
 
হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন ফ্যাশনে ‘পরিবর্তন’ এসেছে ডিজাইনারদের মুন্সিয়ানাতেই। তবে, কিছু কিছু উত্সবের পোশাকে দেখা যায় বিশেষ রঙের উপস্থিতি। যেমন পহেলা ফাল্গুনে সবার পরনে দেখা যায় হলুদ ও বাসন্তী রঙের পোশাক। একুশে ফেব্রুয়ারির পোশাকে ব্যবহূত হয় সাদা-কালো রং। বৈশাখের পোশাক মানেই যেন সাদা-লাল রঙের খেলা। আজকাল অবশ্য এই দুটো রঙের সঙ্গে কমলা, বাসন্তী হলুদ, নীল ও অন্যান্য রঙও ব্যবহার করা হচ্ছে বৈশাখের পোশাকে। তবে ডিজাইনারদের কেন্দ্রীয় রং হিসেবে লাল-সাদাই প্রাধান্য পায়। তবে ঐতিহ্যকে পরিবর্তন করে নয়, বরং সঙ্গে নিয়েই বৈশাখের ট্রেন্ড নির্ধারণ হচ্ছে। নানা মতের ‘জারণ-বিজারণ’-এর মাধ্যমে ঢুকে পড়েছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। থিমভিত্তিক ডিজাইন ভাবনায় প্যাটার্ন ও ভ্যালু এডিশন আধুনিক রূপ পেয়েছে ব্র্যান্ড বা বুটিক শপগুলোর বৈশাখী আয়োজনে।
 
শাড়ির জন্য সুতি ও খাদি কাপড়টাই বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আছে মসলিন, এন্ডি কটন, হাফসিল্ক, টাঙ্গাইল সুতি ইত্যাদির চল। এসব শাড়িতে থাকছে ব্লক প্রিন্ট, স্ক্রিন প্রিন্ট ও এমব্রয়ডারি। মূলত সাদা ও লালের জমিনে শাড়ির পাড় ও আঁচলে বিভিন্ন রঙ ও ঐতিহ্যবাহী নকশা ও দেশীয় মোটিফ বৈচিত্র্য ফ্যাশনে থাকছে এবার। কোনো কোনো শাড়িতে কারচুপি ও সিক্যুয়েন্সের কাজও থাকছে। কারচুপির কাজে ব্যবহার করা হয়েছে সুতা, চুমকি, স্টোন, পাইপ, পুঁতি, ডলার ইত্যাদি।
 
এবারের চলতি ট্রেন্ড অনুযায়ী সালোয়ার-কামিজে থাকছে সেমি লং ও লং কাট। তবে সালোয়ার-কামিজের ক্ষেত্রে ফ্রক কাটিং এই বৈশাখে খুব একটা ফ্যাশনে নেই। সালোয়ার-কামিজের জন্য সুতি কাপড়, খাদি, তসর, এন্ডি, ভয়েল, লিলেন কটন, ধুপিয়ান, মসলিন কাপড়ের উপরে স্ক্রিন প্রিন্ট ও ব্লক করে হাতের কাজ, কারচুপির কাজ ও মেশিন এমব্রয়ডারির ট্রেন্ড আছে। সেই সঙ্গে পাইপিং, টাই-ডাই ও অ্যাপ্লিকের ভেরিয়েশন থাকছে সালোয়ার-কামিজে। সাধারণ বা পাকিস্তানি কাটের পায়জামার বদলে চুড়িদার ও চোস্ত পায়জামার চল বেশি চলছে। এখন কামিজের সঙ্গে প্যান্ট চললেও বৈশাখের ফ্যাশনে এর চল নেই, তবে তরুণীরা কামিজের সঙ্গে চুড়িদারের পাশাপাশি জেগিন্স ব্যবহার করতে পারে। এবার সালোয়ার কামিজের পাশাপাশি ওড়নায়ও এসেছে বৈচিত্র্য। গত বছরে ঢিলেঢালা কামিজের চল থাকলেও এবছর সেমি ফিট বা ফিট কামিজের ট্রেন্ড থাকছে। গরম থাকলেও বৈশাখে থ্রি কোয়ার্টার হাতার চল থাকবে।
 
গত বছরে ছেলেদের পাঞ্জাবিতে স্ট্রাইপ ও চেকের ট্রেন্ড থাকলেও এবছর তা থেকে বেরিয়ে এসেছে ছেলেদের বৈশাখী ফ্যাশন ট্রেন্ড। এবার এতে যুক্ত হয়েছে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার। এক ছাটের লং পাঞ্জাবি বেশি থাকছে এবার, পাশাপাশি সেমি লং পাঞ্জাবিও থাকছে। পাঞ্জাবিতে এক রঙের ব্যবহার বেশি থাকবে তবে কলারে, বাটন প্লেটে, চেস্ট এরিয়াতে ভিন্ন ডিজাইন ও এমব্রয়ডারি ও কন্ট্রাস্ট চোখে পড়বে। পাঞ্জাবির হাতায় ও বর্ডারে কাজ চোখে পড়ার মতো নয়। তবে পাইপিং থাকবে। তবে রঙের পরিবর্তনের সঙ্গে থিমভিত্তিক ডিজাইনারস পোশাক এবার বৈশাখে থাকবে ফ্যাশনে ইন। দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড অঞ্জন’স এবার পোশাকের মোটিফ হিসেবে বেছে নিয়েছে আগেকার ট্রাক, রিকশায় ব্যবহূত হাতে আঁকা পেইন্টিংস, উড ওয়ার্কস ও শিশুদের জন্য শাড়ির বেশকিছু ডিজাইন থাকছে বৈশাখে।
 
মডেল : রিবা ও মিশু
পোশাক : অঞ্জন’স
ছবি : বিশ্বজিৎ সরকার