পরিবেশবাদী কয়েকটি সংগঠনের গবেষনা রিপোর্ট

একাকিত্ব নিয়ে বেড়ে উঠছে শতকরা ৮ ভাগ শিশু

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৬, ১৯:৪৬
 
বাংলাদেশে শতকরা ৮ ভাগ শিশু একাকিত্ব নিয়ে বেড়ে উঠছে। শুক্রবার সকালে রাজধানীর পল্লীমা সংসদ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশবাদী কয়েকটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক গবেষনা প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
 
সমীক্ষায় দেখা যায় ৭-১৫ বছরের বয়সী শিশু-কিশোরদের ৮ ভাগ একাকি থাকতে পছন্দ করে, যার সংখ্যা প্রায় ৩২ লাখ। শিশু-কিশোরদের এই একাকিত্ব তাদেরকে সামাজিক নানা অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ের নানা ঘটনায় যা প্রতিফলিত ও হচ্ছে। ফলাফলে আরো দেখা যায় ২০ ভাগ শিশু-কিশোর কোন না কোন রোগে আক্রান্ত এবং রোগাক্রান্ত মা-বাবার ক্ষেত্রে তা ৩৪ ভাগ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭৪ ভাগ সময়মত খাবার খায় না। পড়ার টেবিল, বইখাতা গুছিয়ে রাখে না ২২ ভাগ শিশু। ৫৯ শতাংশ শিশু শরীরচর্চা বা ব্যায়াম করে না। ১৮ ভাগ শিশু মা-বাবার কাজে সহযোগিতা করে না। আর ৮ ভাগ শিশু থাকতে চায় একাকী।
 
বাংলাদেশের শিশুদের বেড়ে উঠার পরিবেশ এবং জীবনাচার পদ্ধতির বর্তমান পরিস্থিতির চিত্র নিরুপণে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), পল্লীমা গ্রীণ এবং মার্শাল আর্ট ফাউন্ডেশন শিশু-কিশোরদের পরিবেশ, জীবনচর্চা এবং রোগ নিয়ে একটি গবেষণা সমীক্ষা পরিচালনা করে। ঢাকার ৪টি স্কুলের ১ হাজার ৪ শত ৫৭ জন শিক্ষার্থীর প্রাত্যাহিক জীবনচর্চা, তার পারিবারিক পরিবেশ ও রোগ নিয়ে এ সমীক্ষা পরিচালিত হয়। ৭ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের অভিভাবকদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়ভিত্তিক শ্রেণীবিন্যাস করে ফলাফল নিরুপণ করা হয়।
 
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সুস্থ সুন্দর পরিবেশ স্বাস্থ্যকর জীবনের পূর্বশর্ত। একদিকে সুস্থ সুন্দর পরিবেশ যেমন শিশু-কিশোরদের ভালভাবে বেড়ে উঠার সহায়ক, অপরদিকে বিপর্যস্ত পরিবেশের তারা শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা নিয়ে বেড়ে উঠে। পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনাচার পদ্ধতির সাথেও শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
 
তারা আরো বলেন, পরিবেশ বিপর্যয় ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনাচারের কারণে আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে রোগব্যাধি। এর বড় শিকার হচ্ছে জাতির ভবিষ্যত কোমলমতি শিশু-কিশোররা। পরিবেশের সাথে সাথে অনিয়ন্ত্রিত জীবনাচার তাদের শারিরীক ও মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্থ করছে। আমাদের দেশে ৭-১৫ বছরের বয়সী শিশু-কিশোরদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৫ ভাগ। এসব শিশু-কিশোররাই পরবর্তীতে দেশ পরিচালনাসহ জাতীয় অর্থনীতির মেরুদন্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। তাদের শারিরীক ও মানসিক বিকাশে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরী। তাই শিশু-কিশোরদেরকে সামাজিকতায় ফিরিয়ে আনতে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রকে এখনই নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
 
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পাড়া মহল্লায় পর্যাপ্ত খেলার মাঠের দাবিতে খিলগাঁওস্থ পল্লীমা সংসদ থেকে মদিনা হোটেল হয়ে ভূতের আড্ডা পর্যন্ত র‌্যালি এবং শিশুদের জীবন চর্চা পরিবেশ ও রোগ বিষয়ে স্বাস্থ্য সংলাপের আয়োজন করা হয়।