‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা। এসো, এসো, এসো, হে বৈশাখ।’ সকল না পাওয়ার বেদনাকে ধুয়ে মুছে, আকাশ-বাতাস ও প্রকৃতিকে অগ্নিস্নানে সূচি করে তুলতেই আসে বৈশাখ। নতুন স্বপ্ন, উদ্যম ও প্রত্যাশার আলোয় রাঙানো নতুন বাংলা বছর আর ক’দিন পরেই। এই দিনটিকে বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে চমৎকারভাবে উপস্থাপন করলো বাংলা ভাষাশিক্ষা কেন্দ্র ‘লার্ন বাংলা’।
শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবিরতী হলে ৬ষ্ঠ বর্ষপূর্তি এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ ও বাংলা নববর্ষ ১৪২৩ উদযাপন উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে লার্ন বাংলা। অনুষ্ঠানে মনোমুগ্ধকর নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি ও ফ্যাশন শো করেন বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি সুবোধ চন্দ্র ঢালী, লার্ন বাংলার চেয়ারম্যান লেনিন পিনারু। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেরী জুলিয়েট পিনারু।
বিদেশিদের উদ্দেশ্যে করে তাসমিমা হোসেন বলেন, পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন। এ দিনটি বাংলাদেশে নববর্ষ হিসেবে পালিত হয়। এটি বাঙালির একটি সর্বজনীন লোকউৎসব। এদিন আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেয়া হয় নতুন বছরকে।
তিনি বলেন, সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন। অতীতে বাংলা নববর্ষের মূল উৎসব ছিল হালখাতা। ব্যবসায়ীরা নববর্ষের প্রারম্ভে তাদের পুরানো হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করে হিসাবের নতুন খাতা খুলতেন। এ উপলক্ষে তারা মিষ্টি বিতরণ করতেন। চিরাচরিত এ অনুষ্ঠানটি আজও পালিত হয়।
সুবোধ চন্দ্র ঢালী বলেন, বাংলা ভাষাকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার কাজটি করছে লার্ন বাংলা। এজন্য লার্ন বাংলাকে ধন্যবাদ জানাই। রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই ভাষার জন্য প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এটি খুবই ইতিবাচক একটি উদ্যোগ।
মেরী জুলিয়েট পিনারু বলেন, আমি এমন আয়োজন করতে পেরে খুবই খুশি। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। একজন ছাত্রী নিয়ে আমরা শুরু করেছিলাম। এখন প্রায় ৫০টি দেশের শিক্ষার্থীরা বাংলা ভাষা শিখছেন এবং তাদের প্রতিদিনের কার্যক্রমে বাংলা ভাষা ব্যবহারও করছেন।
উল্লেখ্য, বিদেশিদের বাংলা ভাষা শিক্ষা দিতে এবং এই ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি তাদেরকে বাংলা সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে অবহিত করতে এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের মধ্যে একটি ইতিবাচক ধারণা জন্মানোর প্রচেষ্টায় ২০১০ সালের ১৪ এপ্রিল ‘লার্ন বাংলা’ তার কার্যক্রম শুরু করে। বিগত ৬ বছরে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে ‘লার্ন বাংলা’ নামটি বাংলা ভাষা শিক্ষার জন্য বিশেষ পরিচিত।
