পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে চলছে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য বাংলা বর্ষবরণ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সমূহের ঐতিহ্যবাহী বাংলা বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উৎসবকে কেন্দ্র করে নানা আয়োজন।
রবিবার থেকে শুরু হয়েছে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাঁচদিনের বৈসাবী ও বৈশাখী মেলা। মেলা উদ্বোধন করেন সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, সংস্কৃতি জাতিতে জাতিতে মেলবন্ধন রচনা করে। সাংস্কৃতিক উৎকর্ষতার মাধ্যমেই বিভেদ বৈষম্য ও অনৈক্য দূর করে একটি সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ার শপথ নিতে পারি। তিনি আগামী বছরটি যেন সবার জন্য মঙ্গল, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে এর শুভকামনা করেন।
এদিকে পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব ঘিরে বিজু সাংগ্রাই, বিষু বিহু, সাংক্রোন উদযাপন কমিটি শুরু করেছে তিন দিনব্যাপী বর্ণিল অনুষ্ঠান মালা।
IMG0
পাহাড় জুড়ে এভাবে নানা আঙ্গিকে শুরু হয়েছে বৈসাবীর কর্মসূচি। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার বর্ণিল কর্মসূচি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিগুলোর নিজস্ব আঙ্গিকে বৈসাবী পালনে প্রস্তুতি ও কেনাকাটার মধ্য দিয়ে পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়ছে উৎসবের আমেজ।
অপর দিকে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনসহ এলাকায় চলছে বাংলা বর্ষবরণের ব্যাপক প্রস্তুতি। জেলা প্রশাসন আয়োজিত পাঁচ দিনের মেলায় ঢাকা থেকে আসা বাউল ও লালন শিল্পীদের পরিবেশনায় চিরায়ত বাংলার গান ও ব্যান্ড সঙ্গীত।
এবারই প্রথম জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে হস্তশিল্পের বিভিন্ন দোকান। এছাড়া বাংলার ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প সামগ্রী ও আধুনিক পণ্য সামগ্রীর ২৮টি স্টল রয়েছে।
আগামীকাল মঙ্গলবার কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হবে ঐতিহ্যবাহী বিজু, সাংগ্রাই, বিহু ও বৈসুক কিংবা বৈসাবি। বুধবার পালিত হবে মূল বিজু এবং বৃহস্পতিবার বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে।
ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আগামীকাল মঙ্গলবার ১২ এপ্রিল ফুল ভাসানো, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বয়স্ক স্নান কর্মসুচি পালিতে হবে।
এদিকে পাহাড়ি পল্লীগুলোতে বৈসাবী উৎসবের ব্যাপক প্রস্ততিতে ব্যস্ত সর্বস্তরের মানুষ। ফুল বিজুর পরের দিন মূল বিজুতে অতিথি আপ্যায়নে পাহাড়ি ঘরে ঘরে তৈরী হবে ঐতিহ্যবাহি খাবার, পিঠা ও পাঁজন। নতুন পোষাক বেচা-কেনায় জমে উঠেছে জেলা সদর ও উপজেলা সদরের বিপনী বিতানগুলো।
