শার্শায় ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৬, ১৮:১৫
শার্শার ডিহি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জমির মালিকদের নানাভাবে হয়রানী করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
 
জানা গেছে, ডিহি ইউনিয়নের রঘুনাথপুর মৌজায় ১৪ একর জমির মধ্যে ৬ একর সরকারি খাস ও ৮ একর রেকর্ডভূক্ত ব্যক্তি মালিকানা সম্পদ রয়েছে। এখানে কর্মরত ভূমি সহকারী রেকর্ডভূক্ত জমির মালিকদের চাষ করতে দিচ্ছেন না। জমির মালিকরা এ সব জমি দখলে নেয়ার চেষ্টা করলে তাদের নামে শার্শা থানায় একটি নাশকতার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
 
অপরদিকে গোকর্ণ মৌজায় ১১৯৮ দাগে ১০৩৭ বিঘা জমির মালিক ছিল গোকর্ণ গ্রামের তৌহিদুর রহমান। তিনি সরকারের খাজনা দিতে না পারায় সরকার ৮২ জনের নামে স্থায়ী বন্দবস্থ দিয়ে খাজনা আদায় করেন। পরে এ সব জমি ১৯৬২ সালে সরকার তাদের নামে রেকর্ড করে দেন। এ সব ভূমি মালিকদের কাছ থেকে পরবতীতে অনেকে জমি ক্রয় করেন। কিন্তু এই ভূমি সহকারী এখানে যোগদান করার পর থেকে এ সব ভূমির মালিকরা তাদের নিজ নামে খাজনা পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে সরকার রাজস্ব আদায় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।   
 
ডিহি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান জানান, গোকর্ণ মৌজায় ১১৯৮ দাগে ১০৩৭ বিঘা জমির মধ্যে তিনি ৯০ বিঘা জমি কবলা মূলে ক্রয় করেছে। ৭৪-৭৫ সালে তার নামপত্তনও আছে। শার্শা উপজেলা ভূমি অফিসের রেজিস্ট্রার নম্বর ৯-এ তার নাম উল্লেখ থাকলেও বর্তমানে তিনি খাজনা (রাজস্ব) দিতে গেলে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী মহিদুল ইসলাম তার কাছে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। চাহিদা মোতাবেক টাকা না দিলে খাজনা নেয়া যাবে না। পরে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে স্টাম্পে লিখিত হয়। কিন্তু টাকা নেয়ার পরও সে জমির খাজনা গ্রহণ করেনি। টাকা ফেরত চাইলেও সে টাকা দিচ্ছে না।
ডিহি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য জাহাঙ্গির আলম  জানান, ভূমি সহকারী মহিদুল যে মামলা করেছে সেই মামলার আমি একজন আসামি। মামলায় উল্লিখিত জায়গায় কোন দিন গোলযোগ হয়নি। ভূমি সহকারী ঘুষ বাণিজ্য করতে এ মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে।  তাছাড়া ওখানে আমার কোন জমি ও নেই।
 
ডিহি ভুমি অফিসের কর্মচারী আতিয়ার রহমান জানান, মহিদুল স্যার ওবায়দুর রহমানের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে ঘটনা সত্য। স্যার যখন নামাজ পড়তে যায় তখন আলমারিতে প্রচুর টাকা আছে বলে আমাকে অফিসে বসতে বলেন।
 
ডিহি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সানাউল্লাহ জানান, মহিদুলের সঙ্গে ওয়ায়দুরের ৫ লাখ ৫০ হাজার লেনদেনের সময় আমি সাক্ষী ছিলাম।
 
সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মহিদুল ইসলাম জানান, ডিহি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান আমার বিরুদ্ধে স্টাম্পে একটি চুক্তিনামার কথা বলছেন। আসলে ঘটনাটি সঠিক না। আমি কোন চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করি নাই। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
 
শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিটন আলী বলেন, উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।