শিশু হাফিজুলকে হত্যার দায় স্বীকার নূপুরের

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৬, ১৭:৩৫
বানারীপাড়ায় কান্নার ‘অপরাধে’ নিষ্পাপ শিশু হাফিজুলকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন ঘাতক নূপুর বেগম।
 
বানারীপাড়া থানার ওসি জিয়াউল আহসান জানান, শনিবার দুপুরে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে বানারীপাড়া থানায় নিয়ে আসার পর রাতে জিঙ্গাসাবাদের এক পর্যায়ে নূপুর স্বীকার করেন- কান্নায় বিরক্ত হয়ে উত্তেজনাবশত তিনি শিশু হাফিজুলকে আছাড় দেয়। তবে হত্যার উদ্দেশ্যে তিনি ওই ঘটনা ঘটায়নি বলে দাবি করেন।
 
এদিকে রবিবার দুপুরে নূপুর বেগমকে দুই শিশু কন্যাসহ বরিশালে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে সকাল সাড়ে ১০টায় পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী নূপুরের ফাঁসির দাবিতে বানারীপাড়া প্রেসক্লাব, মানবাধিকার কমিশন, নতুনমুখ সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ, নতুনমুখ খেলাঘর আসর, উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, উপজেলা রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন এবং স্পোটিং ক্লাবের উদ্যোগে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 
নতুনমুখ সংগঠনের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বকার সিদ্দিক, বানারীপাড়া প্রেসক্লাব ও বন্দর মডেল স্কুলের সভাপতি রাহাদ সুমন, নতুনমুখ খেলাঘর আসরের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোশারেফ হোসেন, নতুনমুখ সম্পাদক ও মডেল ইউনিয়ন ইনুস্টটিউশনের সিনিয়র শিক্ষক হরে কৃষ্ণ বিশ্বাস, প্রেসক্লাব সম্পাদক কাওসার হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সম্পাদক জাহিদ হোসেন, বানারীপাড়া স্পোটিং ক্লাবের সভাপতি রুহুল আমিন শুভ, উপজেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান প্রমূখ।
 
এদিকে দুপুর ২টায় বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এসএম আক্তারুজ্জামান বানারীপাড়ায় নিহত শিশু হাফিজুলের বাসায় এসে তার শোকার্ত বাবা-মাকে সান্তনা দিয়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার ব্যাপারে তাদের আশ্বস্ত করেন। এ সময় তিনি হাফিজুলের বাবা রিপন শেখকে রিকশা কেনার জন্য ১০হাজার  টাকা দেয়ার পাশাপাশি নূপুরকে  দ্রুত গ্রেফতার করতে সক্ষম হওয়ায় বানারীপাড়া থানার ওসি জিয়াউল আহসান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমানকে ৫ হাজার টাকা করে পুরুস্কৃত করেন।
 
নিহত শিশু হাফিজুলের বাবা অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার ছেলে যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ঠিক সেই মুহুর্তে নূপুরের স্বামী বাবলা মৃধা ঢাকা থেকে মুঠোফোনে কল করে তাকে হত্যার হুমকি দেন।