দলের আবহে মুগ্ধ স্মিথ-ওয়ার্নার

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৯, ২১:০৭

স্পোর্টস রিপোর্টার

এই মাসের শেষেই শেষ হয়ে যাচ্ছে স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারের নিষেধাজ্ঞা। সেই পর্ব শেষ হওয়ার আগেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) তাদেরকে জাতীয় দলের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন কাজ শুরু করেছে।

এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে দলের সাথে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় কাটিয়েছেন স্মিথ ও ওয়ার্নার। আর এই সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা থেকে দুজনই বলছিলেন, তারা দলের সবার কাছ থেকে অবিশ্বাস্য স্বাগত পেয়েছেন। সেই সাথে তাদের মনে হয়েছে, তারা কখনো দলের বাইরে ছিলেনই না।

আগামী ২৯ মার্চ শেষ হচ্ছে স্মিথ ও ওয়ার্নারের নিষেধাজ্ঞা। ফিটনেস ঠিক থাকলে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ দুটি ওয়ানডেতে খেলার যোগ্য থাকবেন তারা দুজন। কিন্তু দুই খেলোয়াড়ই গত মাস দুয়েকের কম সময়ের মধ্যে কনুইতে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। এই অস্ত্রোপচার করানোর জন্য বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আগেভাগে শেষ করে ফিরতে হয়েছিল তাদের। এই অবস্থায় সিএ চাচ্ছে, তারা দুজন সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে না ফিরে আইপিএলে বেশ কিছু সময় কাটিয়ে ফিরুন। এরপর মে মাসের শুরুতে তারা ব্রিসবেনে সরাসরি বিশ্বকাপের ক্যাম্পে যোগ দেবেন।

এর মধ্যে জাতীয় দলের সাথে ২৪ ঘণ্টা কাটানোর অভিজ্ঞতা থেকে ডেভিড ওয়ার্নার বলছিলেন, ‘এটা অসাধারণ ছিল। মনে হয়েছে, আমরা কখনো (দল) ছেড়ে কোথাও যাইনি। ছেলেরা সত্যিই আমাদের দুই হাত তুলে সাদরে ডেকে নিয়েছে। অনেক বড় বড় আলিঙ্গন পেয়েছি আমরা। ভারতের বিপক্ষে দারুণ একটা সিরিজ জয়ের পর দলের ফুরফুরে অবস্থা দেখে খুব ভালো লাগলো।’

এই অভিজ্ঞতা থেকেই স্মিথ বলছিলেন, তার কাছে মনে হয়েছে, তিনি কখনো এই দলের বাইরেই ছিলেন না, ‘আমাদের গ্রুপটাতে আবার ফিরতে পেরে খুব ভালো লাগছে। তারা সবাই খুব আন্তরিক ছিল। আমার মনে হয়েছে যে, আমরা কখনোই তাদের ছেড়ে যাইনি। আর সবকিছু সঠিক পথে আছে।’

নিউল্যান্ডের সেই বল ট্যাম্পারিং কেলেঙ্কারির পর অনেক বদলে গেছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট। দলটিতে এখন নতুন সংস্কৃতি চালুর চেষ্টা চলছে। আর এই সংস্কৃতির সাথেই মানিয়ে নিতে হবে স্মিথ ও ওয়ার্নারকে। ওয়ার্নার বলছিলেন, তারা সেটা করতে তৈরি, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, দল এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে যে মূল্যবোধ তৈরি হয়েছে, আমরা যেন সেটার সাথে মানিয়ে নিতে পারি। আমরা ১২ মাস বাইরে ছিলাম। অবশ্যই এই সময়ে দলে অসাধারণ কিছু পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের সেটা মেনে নিতে হবে। আর আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নিজেদের ভূমিকা রাখতে হবে।’

স্মিথ একই সুরে সুর মিলিয়ে বলছিলেন, বিশ্বকাপ ও অ্যাশেজের আগে এই সময়ে দলের সাথে মানিয়ে নেওয়াটাই তাদের মূল কাজ, ‘আমাদের কাজ হলো এই দলে এখন যে মূল্যবোধ কাজ করছে, সেটার সাথে মিশে যাওয়া। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, বিশ্বকাপ ও অ্যাশেজের মতো দুটো বড় টুর্নামেন্টের আগে আমরা সঠিক পথে আছি।’

দলের কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার আগেই বলেছেন যে, স্মিথ ও ওয়ার্নারের দলে ফেরাটা হবে ঘরের ছেলে ঘরে ফেরার মতো ব্যাপার। তিনি বলেছেন, ঘরের ছেলেরা নানা কারণেই বাইরে গিয়ে থাকে। তাদের ফেরার সময় সবাইকে স্বাগত জানাতে হয়।