নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
স্পোর্টস রিপোর্টার
নারী সাফের সেমিফাইনাল আগামী ২০ মার্চ। একদিনে দুটি সেমিফাইনাল হবে। প্রথম সেমিফাইনালে নেপাল ও শ্রীলঙ্কা এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ও ভারত মুখোমুখি হবে। গতকাল গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় ভারত ৫-০ গোলে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। নেপালের বিরাটনগরে বাংলাদেশ দলের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন এবং তাঁর খেলোয়াড়রা গতকাল ভারত ও শ্রীলঙ্কা ম্যাচের দিকে চোখ রেখেছিলেন। তারা জানতেন লঙ্কানরা পারবেন না। ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে পেরে উঠাও সম্ভব না। হয়েছেও তাই। ভারতের সামনে শ্রীলঙ্কানরা উড়ে গিয়েছে। ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ভারত খেলবে ‘এ’ গ্রুপ রানার্সআপ বাংলাদেশের বিপক্ষে। ভারত ও বাংলাদেশ নারী সাফের গত আসরে ফাইনাল খেলেছিল। ভারত একমাত্র দল সাফের গত চারটি আসরে চ্যাম্পিয়ন। টপফেভারিট দল ভারত। তাদের অভিজ্ঞতার ধারে-কাছে নেই বাংলাদেশ। অনেক অনেক পিছিয়ে। সেমিফাইনালে ভারতকে পেয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা স্বস্তিতে নেই। কোনো অলৌকিক ঘটনা না ঘটলে ভারতকে হারানো কঠিন। ভারতকে হারানোর অভিজ্ঞতা বাংলার মেয়েদের আগেও রয়েছে। কিন্তু সেটা অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলারদের। ওরাও অনেক শক্তিশালী। তবে কথা হচ্ছে বাংলাদেশের বর্তমান ফুটবল দলটা অনূর্ধ্ব-১৬ খেলোয়াড়দের নিয়েই গঠিত। সিনিয়র ফুটবলারদের সংখ্যা খুব কম। মারিয়া, মনিকা, তহুরা, মাসুরা, সানজিদা, শিউলী, রূপনা চাকমা, সামসুন নাহার, মৌসুমী, আঁখীদের মধ্যে একমাত্র সিনিয়র এবং অভিজ্ঞ ফুটবলার হচ্ছেন সাবিনা খাতুন। তাঁর অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক ম্যাচ তুলনা করার মতো। এবার নারী সাফে সাবিনার পারফরম্যান্সও খুব একটা আলো ছড়ায়নি। প্রথম ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করে ম্যাচ জয় নিশ্চিত করেছেন। তবে দ্বিতীয় খেলায় নেপালের বিপক্ষে তাঁকে মাঠ থেকে উঠে আসতে হয়েছে। সাবিনা ছাড়া বাদবাকি যে কজন ফুটবলার রয়েছেন বাংলাদেশ দলে, তাদের বয়স ভারতীয় ফুটবলারদের তুলনায় অর্ধেক। অভিজ্ঞতাও কম। ভারতের ফুটবল খেলোয়াড়দের সঙ্গে এসব পার্থক্য থাকছেই। কাগজে-কলমে হিসাব করলে ভারতের সঙ্গে না পেরে উঠার সম্ভাবনা অনেক বেশি। বাংলাদেশের ফুটবলাররা ধরে নিচ্ছেন ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালই হবে ফাইনাল। বাঁচা-মরার লড়াই। হয় বাঁচবে, না হয় মরবে। হারলে ঢাকায় ফিরে আসতে হবে সাবিনাদের।
ভারতের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে সবকিছু উজাড় করে দিয়ে লড়াই করবে বাংলাদেশ। কিভাবে গোল করবে তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তেমনই গোল ঠেকানোর পরিকল্পনাও করে যাচ্ছে বাংলার মেয়েরা।
