প্রথম প্রান্তিকে এ বছর গ্রামীণফোন লিমিটেডের আয় ২৭৬০ কোটি টাকা। পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ৯.৫% বেশি। আগের বছরের তুলনায় নতুন গ্রাহক ও সেবা থেকে অর্জিত আয় বেড়েছে ১১.৮%, যাতে ডাটা ও মূল্য সংযোজিত সেবার ভূমিকা বর্ধনশীল। গত বছরের তুলনায় ডাটা থেকে অর্জিত রাজস্ব বেড়েছে ৭.১% আর মূল্য সংযোজিত সেবা থেকে আয় বেড়েছে ২০.৫%। ভয়েস কল থেকে অর্জিত আয়ও গত বছরের তুলনায় ৪.৮%।
প্রথম প্রান্তিক শেষে গ্রামীণফোনে গ্রাহক সংখ্যা দাড়িয়েছে ৫ কোটি ৬৩ লাখে যা ডিসেম্বর ২০১৫ এর তুলনায় ০.৭% কম। তবে গত বছরের তুলনায় গ্রাহক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮.২% এবং মার্চের শেষে সিম মার্কেট শেয়ার হয়েছে ৪৩.০%। এই প্রান্তিকে ৪১ লাখ নতুন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী যোগ হওয়ায় মোট ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১ কোটি ৯৯ লাখ।
গ্রামীণফোনের সিইও রাজিব শেঠি বলেন, 'দুই ডিজিটের গ্রাহক ও সেবা থেকে অর্জিত রাজস্ব প্রবৃদ্ধি নিয়ে আমরা একটি ভালো প্রান্তিক পার করেছি। আমাদের ভয়েজ থেকে অর্জিত রাজস্বও বেড়েছে, যা খুবই উৎসাহব্যঞ্জক এবং এতে বোঝা যায় যে আমাদের প্রতিযোগিতামূলক ও সরল অফারগুলো বাজারে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।'
তিনি আরো বলেন, 'প্রথম প্রান্তিকে আমরা ৪১ রক্স নতুন ইন্টারনেট গ্রাহক যোগ করেছি এবং ১৮০৪টি নতুন থ্রিজি সাইট চালু করেছি, যার ফলে মোট জনসংখ্যার ৮০% এখন থ্রিজি সেবার আওতায় চলে এসেছে।'
আয়কর প্রদানের পর ২০১৫ এর প্রথম প্রান্তিকে ২১.৩% মার্জিনসহ ৫৪০ কোটি টাকা মুনাফার তুলনায় ২০১৬ এর প্রথম প্রান্তিকে নিট মুনাফা হয়েছে ২০.৪% মার্জিনসহ ৫৬০ কোটি টাকা। দক্ষ পরিচলন ব্যয় ব্যবস্থাপনার কারণে এই প্রান্তিকে EBITDA (অন্যান্য আইটেমের আগে) হয়েছে ১৫৩০ কোটি টাকা এবং মার্জিন দাড়িয়েছে ৫৫.৩%। এই প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৪.১৫ টাকা।
গ্রামীণফোনের সিএফও দিলীপ পাল বলেন, 'আমরা পর পর চারটি প্রান্তিকে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি দক্ষভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে এবং একই সাথে থ্রিজির আওতা বাড়াতে বিনিয়োগও অব্যাহত ছিল। ভালো রাজস্ব আয় এবং দক্ষ ব্যয় ব্যবস্থাপনার কারণে EBITDA মার্জিনের উন্নতি হয়েছে। উচ্চতর অবচয় এবং অ্যামোর্টাইজেশনের পরও শেয়ার প্রতি আয় বেড়েছে।'
গ্রামীণফোন প্রথম প্রান্তিকে থ্রিজি নেটওয়ার্ক স্থাপন, টুজি নেটওয়ার্কের মানোন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে ৯১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর ফলে আরো বেশি কল ও ডাটা ব্যবহার এবং নতুন নতুন সেবা প্রদানের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এদিকে দেশের বৃহত্তম করদাতা গ্রামীণফোন ২০১৬ এর প্রথম প্রান্তিকে সালে সরকারি কোষাগারে কর, ভ্যাট, শুল্ক ও লাইসেন্স ফি হিসেবে ১৪২০ কোটি টাকা দিয়েছে যা কোম্পানির মোট আয়ের ৫১.৬শতাংশ।
