আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা কি প্রস্তুত?

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৯, ২১:৪৪

মো. রাশেদ আহমেদ

বর্তমান বিশ্ব আধুনিক থেকে অত্যাধুনিক যুগে প্রবেশ করেছে। যতই সময় বেগবান হচ্ছে ততই আধুনিকতার পাশাপাশি বিশ্বে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা অনুন্নত রাষ্ট্রগুলোর জন্য একপ্রকার হুমকিস্বরূপ। কারণ তারা বিশ্বে প্রতিযোগিতার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। বাংলাদেশ একবিংশ শতাব্দীর কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে। যে চ্যালেঞ্জগুলো জয় করতে না পারলে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ গড়ার স্বপ্ন অনেকটা দুষ্কর হয়ে ওঠবে। যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে— প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন সাধন, বেকারত্বের হার কমানো, শিল্প-কারখানার প্রসার ঘটা, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকরণ,সামুদ্রিক অর্থনীতিকে ব্লু-ইকোনমি হিসেবে গড়ে তোলা, শক্ত পররাষ্ট্রনীতি ও বৈদেশিক ঋণ কমানো ইত্যাদি।

বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তির উপর অধিক নির্ভরশীল। কারণ মানুষ এখন প্রযুক্তিকে ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বকে গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত করেছে। প্রযুক্তির কারণেই মানুষের পরিবর্তন আসলেও এদেশের মানুষের আমূল পরিবর্তন আসেনি, সেই প্রক্রিয়াটা বেশ ধীরগতিসম্পন্ন। প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ-সরল করলেও আজ গ্রামের মানুষরা প্রযুক্তির আধুনিকতার ছোঁয়ার বাইরে। অথচ দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানের মত দেশগুলো প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে সে দেশের অর্থনীতি পরিচালনা করে। তাই প্রযুক্তি খাতকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করা একবিংশ শতাব্দীর প্রধান চ্যালেঞ্জ।

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ছাড়া কোনো দেশ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না। তাই শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি। বাস্তবধর্মী শিক্ষা অর্থাত্ কারিগরি শিক্ষাকে প্রাধান্য দিতে হবে। যেমন- যুদ্ধবিধ্বস্ত ভিয়েতনাম কারিগরি শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে আজ সমাজতান্ত্রিক দেশে অর্থনীতি পরাশক্তি। শুধুমাত্র ভিয়েতনাম নয়, ফ্রান্স ফরাসি বিপ্লবের পর বাস্তবধর্মী শিক্ষাকে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছিল।

 আমাদের দেশে বেকারত্বের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। বর্তমানে বেকারত্বের সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি যার মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষিত। এর মধ্যে আবার একভাগ উচ্চশিক্ষিত। যার কারণে আমাদের চিন্তার ভাঁজ একটু বাড়িয়ে দিয়েছে। এই শিক্ষিত যুবকদের সঠিকভাবে কাজে লাগার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তার সঙ্গে সঙ্গে সময়ের পরিক্রমায় বিকল্প পথও খুঁজতে হবে। তরুণদের দৃঢপ্রত্যয়ী ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

অপরদিকে আগামীদিনের চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে শিল্প-কারখানা সম্প্রসারণ করা। সেই সঙ্গে বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন পণ্য উত্পাদন করে বাজার দখল করা এবং কিভাবে টিকিয়ে রাখা যায় সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। কারণ বিশ্ব বাণিজ্যে টিকে থাকা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপানের মতো দেশের সঙ্গে বাণিজ্যে টিকা থাকা এতো সহজ নয়।

রাজনীতির ক্ষেত্রে একবিংশ শতাব্দীতে এক বিরাট পরিবর্তন আসতে পারে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে—তিনি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। অর্থাত্ তিনি রাজনীতি জীবন থেকে অনেকটাই দূরে থাকবেন। সেই ক্ষেত্রে রাজনীতির মেরু পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। আর সেই ক্ষেত্রে রাজনীতির স্থিতিশীলতাকে ধরে রাখা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। একটি দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে রাজনৈতিক অঙ্গন। আমরা যদি মালয়েশিয়া উন্নয়নের কথা বলি তাহলে প্রথমেই আসে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা।

অবশেষে একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, একবিংশ শতাব্দী আমাদের জন্য এক কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। কারণ বিশ্বে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে, সেইসঙ্গে বাংলাদেশ হারাতে যাচ্ছে জিএসপির মতো লোভনীয় সুবিধা যা আগামীদিনের চ্যালেঞ্জটা আরো বেশি কঠিন করছে।

n লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া