শরণার্থী সামাল দিতে গিয়ে বেসামাল জর্ডান

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৯, ২২:১৮

শফিকুর রহমান রয়েল

 

গত দুই বছরে জর্ডানে বাজেট ঘাটতি দুই-তৃতীয়াংশ বেড়ে ১৯ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে, যা কিনা জিডিপির ৮০ শতাংশ। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘুরপাক খাচ্ছে ৩ থেকে ৩ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে। জর্ডানের কেন্দ ীয় ব্যাংকের গভর্নর জানিয়ে দিয়েছেন, নিকট ভবিষ্যতে এর চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। এর কারণ একটাই, শরণার্থী সমস্যা এবং এটিই যেন স্বাভাবিক। গত ৫ বছরে ৫ লাখেরও বেশি সিরীয় শরণার্থী গ্রহণ করেছে এ দেশটি। এসব দেখে  দেশটির এক অর্থনীতির অধ্যাপক সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, ‘আমাদের সামনে দুটি রাস্তা খোলা আছে। এক: অর্থনৈতিক পতন প্রত্যক্ষ করা। দুই: সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া। এখনও প্রতিদিন কমপক্ষে ৮০০ সিরীয় ঢুকছে জর্ডানে। আশ্রয় নেওয়ার জন্য এ দেশটিকেই সবচে’ নিরাপদ মনে করে তারা।

সিরীয় সমস্যার ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে  জর্ডানের অর্থনীতির ওপর।  ৫ লাখেরও বেশি নিবন্ধিত সিরীয় শরণার্থীকে টানতে গিয়ে নিজেদের নাগরিকদের কথা ভাববার খুব বেশি সময় পাচ্ছে না  দেশটির সরকার। গত বছরের জানুয়ারি থেতে এপ্রিল এ সময়ে সিরিয়া থেকে আসা শরণার্থীদের স্বাস্থ্যসেবার পেছনে তাদেরকে খরচ করতে হয়েছিল ৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর তার জন্য জাতিসংঘের কাছ থেকে সরাসরি সাহায্য পেয়েছিল তারা মাত্র ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যে কারণে বার্ষিক স্বাস্থ্যব্যয়  ১৫৩ মিলিয়ন ডলার বাড়াতে হয়েছিল— এসব তথ্য জানিয়েছে মেডিক্যাল জার্নাল দ্য লেনসেট। চাহিদার তুলনায় যোগান খুবই কম হয়ে পড়ায় জিনিসপত্রের (বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্য) দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এতে নিজেদের লোকজনের অসন্তুষ্টি বাড়ছে সরকারের উপর।

সিরিয়ার পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় সবচে’ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জর্ডানের কৃষি খাত। জিডিপিতে এ খাতের অবদান ৪ শতাংশ। সিরীয় শরণার্থীদের ঠাঁই দেওয়া হয়েছে ছোট শহর ও গ্রামগুলোয়। বিশেষ করে মাফরাক, বালকা ও আজলউনের গ্রামগুলোয় তারাই এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই অঞ্চলগুলোয় কৃষিই জীবিকার প্রধান উত্স। শরণার্থীদের অবস্থানের কারণে সেই আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, এর আগে সিরিয়া থেকে আসা বীজ, সার, কীটনাশকে ব্যাপক ভর্তুকি পাওয়ার মাধ্যমে কৃষকরা বেশ লাভবান হত। এ ছাড়া সীমান্তের অনেক লোকই সিরিয়ার কৃষিজ পণ্য চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিল। সেই অপ্রাতিষ্ঠানিক বাণিজ্যও এখন বন্ধ।

আগে খুব সস্তায় পোল্ট্রি পণ্য ও পশুখাদ্য আমদানি করা যেতো সিরিয়া থেকে। কিন্তু এখন আমদানি-রপ্তানিতে কড়াকড়ি থাকায় ডিম ও মাংশের প্রবল সংকট চলছে। গত তিন বছরে ডিমের মূল্য বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। পশুখাদ্যের দাম বেড়েছে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ।